বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে মার্কিন সেনাবাহিনী-সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও শক্তি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কেন্দ্রও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে।
সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা সম্ভাব্য অভিযানকে বড় পরিসরের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ট্রাম্প অভিযান চালানোর অনুমোদন দেবেন কি না তার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তিনি কখন সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই সামরিক অভিযানের নির্দেশ আসতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা বেশি বলেও তাদের কেউ কেউ মনে করছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি ধারণা রাখে। ফলে সম্ভাব্য হামলায় নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা প্রস্তুত করছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে তেহরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনা ছাড়াও অন্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে বলেও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দেশগুলোর দূতাবাসেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা থাকা কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীর মোতায়েন স্থগিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য অভিযানের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত নয়।