বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন—এমন মানুষের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর বিষয়ে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত নির্দেশ দেওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকেরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সমকাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের সময়সূচি দ্রুত প্রকাশ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা স্থগিত রাখে। ফলে আবেদনপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
আদালতের নির্দেশে কর্মসূচিটি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সময়সূচি ও বাস্তবায়ন নিয়ে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। মার্কিন প্রশাসন আপিল করলে এ প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের যোগ্যতা। মার্কিন অভিবাসননীতির নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে সাধারণত সেই দেশের নাগরিকেরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারান।
এই বিধানের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটি তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
এবারের ডিভি-২০২৭ কর্মসূচিতে কোন কোন দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। সেই তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

১৯৯০ সালের মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় চালু হয় ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশের নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে।
তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পূর্ববর্তী অভিবাসন আইন লঙ্ঘন কিংবা অন্যান্য অযোগ্যতার বিষয়ও ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিক যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না তা নির্ভর করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর। তাই আবেদনপ্রত্যাশীদের উচিত সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো।