বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবিঃ সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের ত্রয়োদশ দিনে এসে এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ক্রীড়া সাফল্যের সাক্ষী হলো ভারত, যেখানে নারীদের রিকার্ভ আর্চারি দল তাদের ইতিহাসের প্রথম সোনা জয় করেছে এবং কুস্তির ম্যাটে এক অবিশ্বাস্য কামব্যাক ঘটিয়ে দেশকে এনে দিয়েছে আরেকটি স্বর্ণপদক। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রতিযোগিতার ত্রয়োদশ দিনে আর্চারির রিকার্ভ ইভেন্টে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং কুমকুম মহোদের ত্রয়ী দল চূড়ান্ত ফাইনালে এশিয়ার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করে এই অনন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনে। আর্চারিতে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যে একক আধিপত্য ছিল, তা গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় তরুণীরা নিখুঁত তীরের নিশানায় এই ঐতিহাসিক কীর্তি স্থাপন করলেন। রিকার্ভের মতো সম্মানজনক অলিম্পিক ক্যাটাগরিতে ভারতের নারীদের এই প্রথম স্বর্ণজয় পুরো ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে।
আর্চারির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পরপরই কুস্তির রিংয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও মহাকাব্যিক জয় উপহার দেন ভারতের ফ্রিস্টাইল কুস্তিগীর সুজিত। পুরুষদের ৬৫ কেজি ক্যাটাগরির ফাইনালে সুজিত যখন একপর্যায়ে ৯-২ পয়েন্টে পিছিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন শেষ দুই মিনিটে তিনি এক অতিমানবীয় আক্রমণ শুরু করেন। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় প্রতিপক্ষের পা ধরে একের পর এক টেকডাউন ও রোল করে মাত্র ছয় সেকেন্ড বাকি থাকতে স্কোরলাইন ১০-৯ করে ম্যাচ জিতে নেন সুজিত। কুস্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ সালের পর এশিয়ান গেমসে ভারতের এই প্রথম সোনা জয় কুস্তির ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর আগে সেমিফাইনালে জাপানের বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোতারো কিয়োকাকে ৩-৩ পয়েন্টের জটিল লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন সুজিত।
এদিকে বক্সিংয়ের রিংয়ে নিজের জন্মদিনকে চিরস্মরণীয় করে তুলেছেন টোকিও অলিম্পিকে পদকজয়ী ভারতীয় নারী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই। নারীদের ৭৫ কেজি মিডলওয়েট ক্যাটাগরির ফাইনালে চীনের শক্তিশালী প্রতিযোগী বাও জিয়িকে একতরফা লড়াইয়ে ৫-০ ব্যবধানে পর্যুদস্ত করে স্বর্ণপদক নিজের গলায় ঝুলিয়েছেন তিনি। পুরো ম্যাচে লভলিনা তার চমৎকার ফুটওয়ার্ক এবং নিখুঁত জ্যাব পাঞ্চ দিয়ে চীনা প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেননি, যার ফলে বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই অসাধারণ জয়ের ফলে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণের যোগ্যতাও অর্জন করে নিলেন এই ভারতীয় তারকা বক্সার। বক্সিং রিংয়ে তার এই অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল সোনালী পালক যুক্ত করল।
ঐতিহ্যবাহী খেলার পাশাপাশি অপ্রচলিত ক্রীড়া ইভেন্টেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। সেপাকটাকরো খেলার পুরুষদের কোয়াড্রেন্ট ইভেন্টে আয়োজক শক্তিশালী জাপানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ১৫-১২ ও ১৫-১৩ ব্যবধানে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করে প্রথমবার ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ভারতীয় দল। এছাড়া মিক্সড ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় হংকংয়ের প্রতিযোগীকে ২-০ সেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছেন ভারতীয় তারকা কাশিশ মালিক। এদিকে ক্রিকেটের রিংয়েও ভারত সোনা জয়ের হাতছানি দেখছে; ভারতের ব্যাটিং কোচ হৃষিকেশ কানিতকার জানিয়েছেন যে নারী ও পুরুষ—উভয় দলই ফাইনালে সোনা জয়ের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
একদিনেই ছয়টি সোনাসহ ভারতের এই অভূতপূর্ব পদক বন্যায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ক্রীড়া ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় সকল পদকজয়ী অ্যাথলেটকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের অদম্য সাহস ও দৃঢ়তাই বৈশ্বিক ক্রীড়ামঞ্চে ভারতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিমের (টপস) আওতায় স্বর্ণপদকজয়ী প্রতিটি খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদান ও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্চারি, বক্সিং ও কুস্তিতে ভারতের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে ২০২৮ অলিম্পিকে ভারত একাধিক পদক জয়ের জন্য সঠিক পথেই রয়েছে। এশিয়ান গেমসের পদক তালিকায় ভারত এখন শীর্ষ চারের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।