বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলায় এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মৃতদের দাফনের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কবরস্থান ধ্বংস ও জায়গার সংকটে অনেক ফিলিস্তিনিকে এখন বাগান, স্কুল, হাসপাতাল কিংবা বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরের ভেতরেই স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজার বিভিন্ন কবরস্থানে অতিরিক্ত মরদেহ দাফনের কারণে জায়গার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক পুরোনো কবরের পাশেই নতুন কবর খোঁড়া হচ্ছে। কোথাও আবার জায়গা না থাকায় পারিবারিক পুরোনো কবরেই নতুন করে মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে।
গাজার ধর্মীয় ও দাতব্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে দাফনের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
শুধু কবরস্থানের সংকটই নয়, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের বিভিন্ন সময়ে নিহত বহু মানুষকে হাসপাতাল, স্কুল, বাগান, তাঁবু ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।
গাজার খান ইউনিসের একটি কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন একই জায়গায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

দাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও এখন সংকটের মধ্যে রয়েছে। কবরের ফলক না পাওয়ায় অনেক পরিবার ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদামাটি কিংবা ঢেউটিন ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করছে। ফলে অনেক কবরের পরিচয়ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি কবরস্থানসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় নতুন কবরস্থানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো পরে স্থায়ী কবরস্থানে স্থানান্তর করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন শুধু জীবিতদের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষ যেমন আশ্রয় ও খাবারের সংকটে ভুগছেন, তেমনি মৃত স্বজনদের শেষ ঠিকানা দেওয়ার জায়গাটুকুও খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।