বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি রাবারের নৌকা ভূমধ্যসাগরে দিক হারিয়ে প্রায় ১০ দিন ভেসে থাকার পর মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছেছে। নৌকাটি থেকে ২৯ বাংলাদেশিসহ জীবিত ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কায়রোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক। এ ঘটনায় ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি নাগরিকসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাস জানায়, মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী যাত্রা করেছিলেন। গত ৩ আগস্ট তবরুক থেকে রাবারের নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়।
নৌকাটিতে স্পিডবোটের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হলেও প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীদের জানানো হয়েছিল, প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গ্রিসে পৌঁছানো সম্ভব হবে। কিন্তু নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সাগরের মধ্যে ভাসতে থাকে।
দীর্ঘ প্রায় ১০ দিন পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় পুলিশ যাত্রীদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তাদের কয়েকজন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে নৌযাত্রার বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তার বর্ণনা অনুযায়ী, সাগরে আটকে থাকার সময় প্রচণ্ড গরম, তীব্র রোদ এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিক মারা যান।
দীর্ঘ সময় সাগরে পড়ে থাকায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেলে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেন বলে জানান আব্দুল করিম।
ঘটনাটি জানার পর মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে মিশরের আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সরেজমিন তথ্যের ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।