বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন -ছবি : সংগৃহীত
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ব্যক্তিগত কারণে নয়; বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তরুণদের আন্দোলনকে ঘিরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন কোনো অপশক্তি বা দেশবিরোধী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ুক, সেটিও তিনি চান না। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিজের পদত্যাগকে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বিবৃতিতে নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট সংকটের বিষয়েও কথা বলেন সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্র সরকার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা পুনরায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ভালো ফল করেছেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
গত কয়েক দিন ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে নিট প্রশ্নফাঁসের সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও অংশগ্রহণে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
শুরুতে সরকার ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানালেও আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও কোনো সরকারি পদে না থাকলেও দেশের মানুষ এবং বিশেষ করে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।