বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, রাতভর মার্কিন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার পরই এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও অনেক বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।
জর্ডানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, তারা যেন নিজেদের দেশে থাকা ‘আগ্রাসী ও ইসলামবিরোধী মার্কিন স্বার্থের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।
সিরিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরে সেনা সদস্যদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে সিরিয়ার সরকার বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, সিরিয়া-জর্ডান-ইরাক সীমান্তবর্তী আল-তানফ ঘাঁটি থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
ইরাক-কাতার-কুয়েতে হামলা
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর মধ্যে কাতার, কুয়েত ও ইরাকও রয়েছে। উত্তর ইরাকের ইরবিল ও সুলাইমানিয়া শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানবিরোধী কুর্দি সংগঠন কোমালাকে লক্ষ্য করে এই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি ইরান।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও তীব্র হচ্ছে সংঘাত
গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যদিও এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপ কমাতে অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বান্দার-ই-লেনগেহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে মার্কিন হামলা হয়েছে। এছাড়াও বন্দর-ই-খামির এলাকায় তিনটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামোতে হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
ইরানশাহর বিমানবন্দরে চালানো হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান হামলার পর সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। শুক্রবারের সর্বশেষ হামলাতেও নতুন করে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।