বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়। গ্রিনিচ মান সময় ভোর সাড়ে চারটার দিকে আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০৭ ডলার। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এ দাম মাত্র ৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে কয়েক দিন ধরে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলেও বুধবার তা আবার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর পেছনে ভূমিকা রাখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চললে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
তবে নতুন সমঝোতা স্বাক্ষরের খবরে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কমার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন।
এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়।
তবে সব বাজারে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে যা আঞ্চলিক বাজারের সামগ্রিক উত্থানের বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে এসব ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরে এসেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বর্তমানে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৫০০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, জলপথে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের এই ইতিবাচক অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।