বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকা চীনের রাজধানী বেইজিং এখন পরিচিতি পাচ্ছে পরিচ্ছন্ন আকাশ ও উন্নত বায়ুমানের উদাহরণ হিসেবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি বায়ুদূষণ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের আগে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে দূষণ নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয় চীন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চালু করা হয় যার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হয় সুসংগঠিত অভিযান।
এই পরিকল্পনার আওতায় কয়লাভিত্তিক কার্যক্রম সীমিত করা, গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পকারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ জোরদার করা হয়।
চীনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫ কমানো। এই কণাগুলো মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
শুধু নির্গমন কমানো নয় বেইজিংয়ে চালু করা হয় দূষণ পূর্বাভাস ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা। পাশাপাশি দূষণকারী শিল্প স্থানান্তর, কৃষিজ বর্জ্য পোড়ানো রোধে প্রণোদনা এবং কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বেইজিংয়ে পিএম২.৫ মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭২ মাইক্রোগ্রাম যা ২০১৯ সালে কমে ৩৬ এবং ২০২৪ সালে ২৯.৩ মাইক্রোগ্রামে নেমে আসে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে তা আরও কমে ২৪.৯ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়।
চীনের বিভিন্ন শহরে এ সময় বায়ুমানের উন্নতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। ৩৩৯টি শহরে বছরে গড়ে ৩১৬ দিন ভালো বায়ুমান বজায় ছিল বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। নির্মাণ ও শিল্প খাতে নির্গমন কমানো, পুরোনো যানবাহন বাতিল এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বেইজিং–তিয়ানজিন–হেবেই অঞ্চলে পিএম২.৫ মাত্রা ৪৪ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ উন্নয়নেই নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পেও দেশটিকে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
বর্তমানে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দেশটি কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ২০৬০ সালের মধ্যে অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষক ও বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ধারাবাহিক নীতিগত পদক্ষেপ ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।