বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ না থাকলে ইরান ইতোমধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেতে পারত।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওয়াশিংটনের বাগদাদে সামরিক হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল না।
তার ভাষায়, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ছিল একটি বড় ভুল, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। তিনি বলেন, শুরু থেকেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল না।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
তার মতে, বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালানো হলে বর্তমানে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেতে পারত। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারত।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ত। পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাও বদলে যেতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কৌশল গ্রহণ করেনি।
তার মতে, ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থানে রয়েছেন। এ কারণে পুরো বাহিনীকে লক্ষ্য না করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, অনেক সময় যুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যার ফলে একটি দেশের অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং তা পুনর্গঠনে কয়েক দশক সময় লেগে যায়।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেত্রে সেই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেনি। বরং দেশটির নেতৃত্বের নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার পথ থেকে বিরত থেকেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি ইরাক ও ইরানে মার্কিন সম্পৃক্ততার সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তার প্রশাসনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।