বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী -ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করা হবে। শপথ গ্রহণের পর রাজ্যের ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তর এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণার মূল ইস্যু ছিল বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যাবাসন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে এই দল অভিযোগ তুলেছিল, সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল থাকার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে এবং ভোটের রাজনীতির স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রেখে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী ও তার মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে। এর আগে গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় পায়। ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বড় নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হওয়া বিজেপি এবার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনী প্রচারে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সারা রাজ্যে ৯০ লাখ ৮০ হাজার নাম বাদ পড়ার মতো ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানায় দলটি।
শুভেন্দু আরও বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার আগের তৃণমূল সরকারের চালু করা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বন্ধ করবে না। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পও। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী জানান, বৈঠকে ছয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধিকারী বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হবে না... পশ্চিমবঙ্গে চলমান সব উপকারভোগীভিত্তিক প্রকল্প চালু থাকবে’।
লক্ষ্মীর ভান্ডার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম প্রধান প্রকল্প। ২০২১ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীরা মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ রুপি পান। অন্য শ্রেণির নারীরা পান মাসিক এক হাজার রুপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল। কারণ, এটি তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চকণ্ঠ ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে সরকারবিরোধী মনোভাব মোকাবিলায়ও এই প্রকল্প তাকে বড় সুবিধা এনে দিয়েছিল।