বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

হরমুজ প্রণালির চারপাশে কয়েক দিনের বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার পর বর্তমানে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি খুবই সীমিত। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত শেষ করে শান্তি আলোচনার জন্য ইরানকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি যা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের অগ্রগতি খুব কম।
আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু হওয়ার কথা। যার কারণে দুই দেশের সংঘাত অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিন হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে যুদ্ধ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।
এই অবরোধ নিরসনে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি একটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাকে রাশিয়া সমর্থন করেছে। মস্কো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থিতিশীলতা ভঙ্গ করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেলের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরান চীনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে তেহরান সেই নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে ইচ্ছুক। উপসাগরে বর্তমানে ২০ হাজার নাবিক আটকে রয়েছেন। যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দুই মাসের সংঘাতে অন্তত ১১ নাবিক নিহত হয়েছে। সিআইএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরও কয়েক মাস চললেও ইরান তা সহ্য করতে সক্ষম।

শুক্রবার প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষও ঘটেছে। যদিও পরিস্থিতি এখন শান্ত তবে ভবিষ্যতে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের সময়ও প্রায়ই বেপরোয়া সামরিক অভিযান বেছে নেয়।
সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ জন ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে চীন ও হংকংয়ের বেশ কয়েকজনও রয়েছেন। ইরানের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন তৈরির কাঁচামাল ও অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশি কোনো কোম্পানিও যদি ইরানের অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। আন্তর্জাতিক চাপ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক উপস্থিতির মধ্যে সংঘাত স্থগিত হলেও চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রগতি খুবই সীমিত।