বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ চলাকালীন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা এবং নাটকীয় সব ঘটনার পর অবশেষে ইরানে ফিরেছেন দেশটির জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিকাংশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ ) তেহরানে পৌঁছালে তাঁদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, তেহরান বিমানবন্দরে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এবং ফুল দিয়ে খেলোয়াড়দের বরণ করে নেন। এ সময় খেলোয়াড়দের হাতে ছোট কিছু ফুটবল ছিল, যাতে তারা সমর্থকদের অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন।
দলের অন্যতম মিডফিল্ডার ফাতেমেহ শাবান দেশে ফিরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, প্রথমত, আমরা ইরানে ফিরতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ ইরান আমাদের মাতৃভূমি। সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতি দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং নিজেকে 'ইরানের কন্যা' হিসেবে অভিহিত করেন।
এশিয়ান কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইরানি দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর অধিকাংশ খেলোয়াড় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও দুজন এখনো ফেরেননি। ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ এবং আতেফেহ রামাজানিসাদেহ নামের দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গেছেন এবং বর্তমানে তারা ব্রিসবেন রোর ক্লাবের সাথে অনুশীলন করছেন বলে জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের নীরব থাকা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ একে 'প্রতিবাদ' হিসেবে দেখলেও অনেকে একে শোক পালনের ভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা জাতীয় সংগীত গেয়েছিলেন।
বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পর এই খেলোয়াড়দের দেশে ফেরা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশ তার সন্তানদের দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানায়। সরকার তাদের নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে এই নারী ফুটবল দলের প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল।