বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণভাণ্ডারের মালিক লেবানন। এখন দেশটির সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন, পঙ্গু অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ স্বর্ণ ব্যবহার করবে, নাকি শুধু শেষ আশ্রয় হিসেবেই রেখে দেবে? সাধারণ লেবানিজরা সম্পদ রক্ষার উপায় হিসেবে ক্রমেই স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বৈরুতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯৬০-এর দশক থেকে ২৮৬ টন বা প্রায় ৯০ লাখ আউন্স স্বর্ণ রিজার্ভ হিসেবে ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে কেবল সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছেই এর চেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি রেকর্ড পর্যায়ে দাম ওঠার একপর্যায়ে লেবাননের স্বর্ণভাণ্ডারের মূল্য পৌঁছে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারে, যা দেশটির জিডিপির দ্বিগুণের বেশি।
অনেক বছর ধরে ইসরায়েলকে প্রতিরোধ করে আসছে লেবানন। ২০১৯ সালের শেষ দিকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে দেশটি। ওই সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে আমানতকারীরা কার্যত সব সঞ্চয় হারায়। প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসে। এ বিপর্যয়ের অন্য কারণের মধ্যে রয়েছে কয়েক দশকের দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা।
সব মিলিয়ে আর্থিক খাতে লেবাননের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের কারণে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি। বর্তমানে লেবানন সরকার ভাবছে, বিপুল স্বর্ণভাণ্ডারের একটি অংশ ব্যবহার করে ধসে পড়া ব্যাংকগুলোকে উদ্ধার এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া যায় কিনা। তবে প্রক্রিয়াটি সহজ হবে না। কারণ এতে আশির দশকে প্রণীত একটি আইনের লঙ্ঘন হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু ব্যাংক প্রস্তাব দিচ্ছে, মুদ্রা সংকটে উবে যাওয়া আমানতের অর্থ ফেরত দিতে স্বর্ণভাণ্ডার ব্যবহার করা হোক। এটি হতে পারে কার্যকর সরকারি সম্পদ দিয়ে ব্যাংকগুলোর আংশিক উদ্ধার।’ গৃহযুদ্ধের সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৮৬ সালে লেবানন স্বর্ণ বিক্রি নিষিদ্ধ করে। সে আইন আজও বহাল রয়েছে। ১৫ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে একাধিক যুদ্ধের পরও কখনই এ স্বর্ণভাণ্ডার স্পর্শ করা হয়নি।
কিছু অর্থনীতিবিদ প্রস্তাব, ব্যাপক সংস্কারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের কিছু অংশ পুনর্গঠন করতে পারে লেবাননের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ খাত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রাণ ফেরানো যেতে পারে। তবে যে উদ্দেশ্যেই হোক, মজুদ স্বর্ণ ব্যবহারে সংসদের ভোটাভুটি প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। সম্প্রতি সংসদে স্বর্ণ প্রসঙ্গ উঠতেই স্পিকার নাবিহ বেরি দ্রুত আলোচনা বন্ধ করে দেন।
আমানতকারীদের ক্ষতির আংশিক ফেরতের কাঠামো নির্ধারণে প্রণীত একটি খসড়া আর্থিক ঘাটতি আইনও সংসদে আটকে আছে। বিতর্কের মূল প্রশ্ন, এ ক্ষতির বোঝা কে নেবে? দায় নিতে অনিচ্ছুক দুর্বল ব্যাংকগুলো, নাকি ঋণে জর্জরিত ও অপচয়প্রবণ রাষ্ট্র? এছাড়া বছরের পর বছর অর্থবহ সংস্কার এড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা হারিয়েছেন অধিকাংশ লেবানিজরা। তাই অনেকের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বর্ণভাণ্ডার অক্ষত রাখাই শ্রেয়।
রাষ্ট্র যখন স্বর্ণভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায়, তখন ব্যাংকে সঞ্চয়ের বড় অংশ হারানো বহু লেবানিজ বাস্তব সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। স্বর্ণ ও রুপা কিনে অন্তত হাতে ধরা কিছু সম্পদ রাখার চেষ্টা করছেন তারা। ব্যাংকের ওপর ভরসা না করে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি ও সংস্কারহীন এক বিশৃঙ্খল নগদ অর্থনীতিতে কোনো রকমে টিকে থাকার লড়াই তাদের। বোগোস এসএএল প্রেশাস মেটালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস বোগোস বলেন, ‘যারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছেন, তাদের জন্য স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় নয়। এটাই একমাত্র আশ্রয়।’
চাহিদা এত বেশি যে ক্রেতারা এখন অগ্রিম টাকা দিয়ে কয়েক মাস পর স্বর্ণ ও রুপার জন্য অপেক্ষায় থাকছেন। বৈরুতভিত্তিক থিংক ট্যাংক দ্য পলিসি ইনিশিয়েটিভের অর্থনীতিবিদ সামি জুঘাইব বলেন, ‘সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা লেবাননের মানুষের মধ্যে বরাবরই ছিল। কারণ দেশটি একাধিকবার অতি মূল্যস্ফীতি দেখেছে।’