বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জেফরি এপস্টেইনের অনেক ফাইল সরিয়ে নিয়েছে ডিওজে : সংগৃহীত ছবি
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রকাশিত নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠায় নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার নথি সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিগুলোর রিডাকশন প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যায় বলে জানান ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা। খবর বিবিসির।
আইনজীবীরা জানান, নথিতে ইমেইল ঠিকানা, নগ্ন ছবি এবং এমন সব তথ্য ছিল যার মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। এতে বহু ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও মানসিক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা ঘটনাটিকে জঘন্য আখ্যা দেন। তাদের দাবি, নথি প্রকাশের নামে ভুক্তভোগীদের আবারও যাচাই–বাছাই করা বা অতীতে পাওয়া ট্রমায় ফের ঠেলে দেওয়া অমানবিক। এরপরই ডিওজে জানায়, অভিযোগ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট সব নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নতুনভাবে রিডাকশনের কাজ চলছে।
ফেডারেল আদালতে সোমবার দাখিল করা এক চিঠিতে ডিওজে জানায়, ভুক্তভোগী বা তাদের আইনজীবীর অনুরোধে যেসব নথি রিডাকশনের জন্য চাওয়া হয়েছে, সেগুলো আগের সন্ধ্যার মধ্যে ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন অনুরোধগুলোও পর্যালোচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদিত এক প্রস্তাব অনুযায়ী ডিওজেকে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশনায় ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়—এমন সব তথ্য গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।
ভুক্তভোগী অ্যানি ফার্মার বিবিসিকে বলেন, নতুন যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করাই কঠিন হয়ে গেছে। কারণ ডিওজে যেভাবে ভুক্তভোগীদের প্রকাশ করেছে, তাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা ভয়াবহ।
আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস অভিযোগ করে বলেন, ডিওজে আমাদের দেওয়া তিনটি শর্তের একটিও মানেনি। বহু নথি এখনো প্রকাশ হয়নি, সময়সীমা অমান্য করা হয়েছে, আর প্রকাশিত নথিতে ভুক্তভোগীদের নামও ফুটে উঠেছে। মনে হচ্ছে তারা আমাদের নিয়ে খেলা করছে।
নারী অধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড বলেন, বেশ কিছু নথিতে নামের ওপর দাগ টানা থাকলেও সেগুলো স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছিল। কোথাও আবার এমন ভুক্তভোগীদের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে যারা কখনো প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার দেননি বা নিজেদের পরিচয় জানাননি।
এ বিষয়ে ডিওজের এক মুখপাত্র সিবিএসকে বলেন, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। লক্ষ লক্ষ নথির মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন করা হয়েছে।
গত বছর নতুন আইন অনুযায়ী নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ায় ডিওজে এর আগে ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। শুধু গত শুক্রবারই এই বিশাল পরিমাণের নথি একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়।