বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ছবি
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে ওয়েবসাইট পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং প্রযুক্তি পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাইবার হামলাকারীরা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেওয়া এবং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তিতে সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ ও সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯ নম্বরের দুটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার শনাক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণগুলো দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিজিডি ই-গভ সার্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পিএইচপি-এফপিএম, পিএইচপি-সিজিআই, মড-পিএইচপিযুক্ত অ্যাপাচি, ফ্রাঙ্কেনপিএইচপি ও লাইটস্পিডভিত্তিক সার্ভারগুলো এই নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতায় থাকতে পারে। পাশাপাশি পিএইচপি দিয়ে তৈরি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, শেয়ারড হোস্টিং ও কনটেইনারভিত্তিক ব্যবস্থার নিরাপত্তাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।
পিএইচপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি ওয়েব পোর্টাল, অনলাইন সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত হয়। ফলে কোনো সার্ভারে এ ধরনের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যের গোপনীয়তা ও অনলাইন কার্যক্রমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিভাগও ত্রুটি দুটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অনুমোদন ছাড়াই দূর থেকে কোড চালানো কিংবা সংবেদনশীল তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে সরকারি ওয়েবসাইটের কত অংশে পিএইচপি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের পরিচালিত ন্যাশনাল পোর্টাল ব্যবস্থার ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি দিয়ে তৈরি নয়। ফলে এসব সাইট এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়।
তবে ন্যাশনাল পোর্টালের বাইরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। সেগুলোর কোনোটি পিএইচপি ব্যবহার করে তৈরি হলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলোও নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতায় আসতে পারে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা ধারণা করেছেন, বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটের ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এটি যাচাই করা কোনো পরিসংখ্যান নয়।
তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভার দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি ইন্টারনেটে সরাসরি উন্মুক্ত সার্ভারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির ত্রুটিমুক্ত সংস্করণে দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে বিজিডি ই-গভ সার্ট। যেসব সার্ভারে তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব নয় সেগুলোতে ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সার্ভার লগ পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক অনুরোধ, সন্দেহজনক প্রবেশ এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চিহ্ন খুঁজে দেখা জরুরি। কারণ, সফটওয়্যার হালনাগাদ করলেই আগে থেকে ঘটে যাওয়া অনুপ্রবেশ বা ক্ষতিকর পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয় না।
এ ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন বা ফ্রেমওয়ার্ক হালনাগাদ করলেই পেছনে ব্যবহৃত পিএইচপি রানটাইম নিরাপদ হয়ে যায় না। তাই সার্ভারে প্রকৃতপক্ষে চালু থাকা পিএইচপি সংস্করণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সমাধান যুক্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।