বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাপানের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে মানবদেহের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে স্থাপিত বিশেষ রেফ্রিজারেটর বুথ।
জাপানে গ্রীষ্মকালীন নজিরবিহীন দাবদাহ ও তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝে খোলা জায়গায় ও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’ বা মানুষের জন্য বিশেষ শীতলীকরণ বুথ স্থাপন করছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শিল্পনগরী হিগাশিশোসাকায় তীব্র গরমে কাজ করা ওয়্যারহাউস ও কারখানার শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে টেলিফোন বুথের আকৃতির এই বিশেষ কুলিং চেম্বার ব্যবহার করা হচ্ছে। টোকিওভিত্তিক শিল্প সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাসকো নাকায়ামার বাজারজাত করা ‘দো হিয়েমন বক্স’ নামের এই ডিভাইসের ভেতরে শক্তিশালী শীতল বাতাসের প্রবাহ মাত্র কয়েক মিনিটেই মানবদেহের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে।
গত এপ্রিল থেকে বাজারে আসার পর প্রতিটি প্রায় ১৫ লাখ ইয়েন (প্রায় ৯ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার) মূল্যের এই যন্ত্রটি ইতোমধ্যে নির্মাণ সাইট, কারখানা ও ওয়্যারহাউস মিলিয়ে তিন শতাধিক স্থানে বিক্রি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মাণশিল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যতে খোলা গলফ মাঠ ও বেসবল স্টেডিয়ামের মতো উন্মুক্ত ক্রীড়াঙ্গনগুলোতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে রেকর্ড উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল পার করার পর চলতি বছর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়ালে আবহাওয়া দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ককুশোবি’ বা ‘চরম নিষ্ঠুর গরমের দিন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে একে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সতর্কতার সাথে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে। শুধু টোকিওতেই আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক মাসে প্রায় ১২০ জন মানুষ অতিরিক্ত গরমে প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো গ্রীষ্মে দেশজুড়ে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জাপানের শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। তেইকোকু ডেটাব্যাংকের জুলাই মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তীব্র গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে এবং প্রায় ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সুরক্ষায় নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
যেসব উন্মুক্ত কারখানায় ভারী যন্ত্রপাতি ও ট্রাক চলাচলের কারণে সাধারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি কার্যকর নয়, সেসব স্থানে এই ভ্রাম্যমাণ কুলিং বক্স অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগে চলা এবং সহজে চাকা দিয়ে স্থানান্তরযোগ্য এই যন্ত্রটিতে অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে ২০ মিনিটের স্বয়ংক্রিয় পাওয়ার-কাট ব্যবস্থা রয়েছে, যা শ্রমিকদের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিরাপদ ও সম্পূর্ণ ঘামমুক্ত করে সতেজ করে তোলে।