বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ক্ষমা চেয়েও সমালোচনার মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
কাউন্সিল সদস্যদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি তহবিলের কাছে বিক্রির গোপন পরিকল্পনা ফাঁসের পর শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ক্ষোভ কমেনি নির্বাহী পর্ষদের। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব না পেয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সভাপতি পদে বহাল থাকার যোগ্যতা নিয়েই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড ও জার্মানির ফুটবল শীর্ষকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফিফার সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৩৭ সদস্যের নির্বাহী পর্ষদের ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। সভার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি পৃথক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের লাভজনক বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি আর্থিক সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার বিতর্কিত ছক। পুরো বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা।
বৈঠকের শুরুতেই কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে ব্রিটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট সাফ জানিয়ে দেন, নিছক ক্ষমাপ্রার্থনায় হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার গোপনীয় নথিপত্র এবং বহিরাগত অর্থদাতাদের সঙ্গে চলা আলোচনার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
হিউইট কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, ‘ইনফান্তিনোকে অবশ্যই এই অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে। তিনি যদি এখনই এগুলোর স্বচ্ছ উত্তর দিতে না পারেন, তবে ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো নৈতিক যোগ্যতা তাঁর নেই।’
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সভাপতি বার্ন্ড নয়েনডর্ফও বর্তমান রাষ্ট্রপতির নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ জানান। তাঁর মতে, ফিফার বর্তমান প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনা কাঠামোয় আমূল সংস্কার জরুরি এবং ইনফান্তিনোর মতো একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্বের অধীনে এই সংস্কার কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যোগ্য কোনো বিকল্প প্রার্থী পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিতর্কিত বিনিয়োগ প্রকল্প ছাড়াও জুরিখের বৈঠকে ফিফার আরও কয়েকটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার দেওয়া বিতর্কিত শান্তি পুরস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত বিশ্বকাপের নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের সরাসরি ব্যক্তিগত তদবিরের পরই বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তড়িঘড়ি তুলে নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে ইনফান্তিনোর কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা না পেয়ে চরম অসন্তোষ নিয়ে সভা ত্যাগ করেন ইউরোপের প্রতিনিধিরা।
চলমান এই প্রশাসনিক গৃহদাহের মধ্যেই অবশ্য সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফার রিজার্ভ তহবিল থেকে ৩৫০ কোটি ডলার বণ্টন সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্যাকেজের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ফিফা কাউন্সিল। নির্ধারিত আগামী চার বছরের চক্রে এই অর্থ বিশ্বজুড়ে জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে একদিকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ বরাদ্দের তোফা, অন্যদিকে ইনফান্তিনোর পরিচালনা নীতি ও সততা নিয়ে উঠতে থাকা ধারাবাহিক প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ফুটবল অভিভাবক সংস্থার শীর্ষ মহলে আস্থা ফেরানোর পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।