বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রতীকি ছবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের মাঠে ফেরানো এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিযোগিতার নতুন আবহ তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ও ফুটবল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি)। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’। আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু, আকর্ষণীয় প্রাইজমানি ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনায় নতুন এই আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
চলতি অক্টোবর মাসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির দুটি ভেন্যু বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ মাঠে গড়াবে ২৫ অক্টোবর, আর ফুটবলের লড়াই শুরু হবে ২৬ অক্টোবর।
প্রতিযোগিতায় দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিকেট ও ফুটবলে ১০টি করে দল অংশ নেবে। দলগুলো দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। এরপর সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে দুই বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
শুধু অংশগ্রহণেই নয়, পুরস্কারেও থাকছে বাড়তি আকর্ষণ। ক্রিকেট ও ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ টাকা করে। রানার্সআপদের জন্য বরাদ্দ পাঁচ লাখ টাকা করে। প্রতিযোগিতার সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাডলাইটের আলোয়। আগামী ৩ নভেম্বর ফুটবল এবং ১৩ নভেম্বর ক্রিকেটের ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম আসর।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ইতোমধ্যে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় বহুমুখী সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি এখানে বাস্কেটবল, বক্সিং, স্কোয়াশ, ফুটসাল, সাঁতার, প্যাডেল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইভেন্ট আয়োজনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলাও এই স্পোর্টস সিটির অন্যতম লক্ষ্য।
এই কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। ফিফার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই ফুটবল ভেন্যুটি বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে নিয়মিত ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিজস্ব স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে ভেন্যুটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
পাশেই রয়েছে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি ক্রীড়াপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাও এই ভেন্যুকে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করবে।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান জানান, দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এবিজি স্পোর্টস সিটিকে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন খেলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।
ইমরুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তোলা এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক ক্রীড়া চর্চার পরিধি বাড়ানোই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল দিয়ে প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আরও বড় পরিসরে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা নতুন নয়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। তবে একই উদ্যোগে ক্রিকেট ও ফুটবলকে একত্র করে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা আয়োজন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, উল্লেখযোগ্য প্রাইজমানি, ফ্লাডলাইটে ম্যাচ আয়োজন এবং টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা টুর্নামেন্টটির আকর্ষণ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা তুলে ধরা, নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেট ও ফুটবলের একটি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলাধুলাকে আরও সংগঠিত ও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি উদ্যোগ। প্রথম আসরের সাফল্য এবং ডিসেম্বরে বৃহত্তর আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে কতটা বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারে।