বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবিঃ বিসিবি
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ সূচনার পরও হঠাৎ ব্যাটিং ধসে মাত্র ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি মাঠে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে দুই উদ্বোধনী ব্যাটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়েই দলীয় শতক পেরিয়ে যায় টাইগাররা। ১০৮ রানের চমৎকার উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের পথ তৈরি হলেও মধ্যাহ্নবিরতির পর স্বাগতিক বোলারদের স্পিন ফাঁদে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট বিলিয়ে দেন মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা। মরুভূমির তপ্ত কন্ডিশনে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের জন্য এই প্রস্তুতি ম্যাচে এমন নাটকীয় বিপর্যয় টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সকালের সেশনে চরম ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণ সামাল দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। চমৎকার সব ড্রাইভ ও নিখুঁত ফুটওয়ার্কে ভর করে তারা শক্ত ভিত্তি এনে দেন দলকে। কিন্তু প্রথম উইকেট পতনের পরই ম্যাচের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাত্র ১২৬ রানের ব্যবধানে বাকি ১০টি উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। কোনো ব্যাটারই ক্রিজে জমে যাওয়ার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি, যা টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন ও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রবণতাই এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।
মিডল অর্ডারে নামা অভিজ্ঞ ব্যাটাররা উইকেটের ধীরগতির টার্ন ও বাউন্স বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক উইকেট উপহার দিয়ে আসেন। স্পিনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউ ও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার। শেষদিকে টেল-এন্ডারদের সহায়তায় উইকেটরক্ষক ব্যাটার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৩২ রান না করলে দলীয় সংগ্রহ দুইশত রানের নিচেই আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। আরব আমিরাতের তরুণ স্পিনাররা সুনির্দিষ্ট লাইনে বোলিং করে রান আটকে রাখেন এবং বাংলাদেশি ব্যাটারদের ওপর ক্রমাগত ডট বলের চাপ তৈরি করে সাফল্য তুলে নেন।
বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে ১ম দিনশেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৪২ রান সংগ্রহ করেছে আরব আমিরাত একাদশ। পেসার হাসান মাহমুদ চমৎকার এক ইনসুইঙ্গারে ওপেনারের স্টাম্প উপড়ে ফেলে একমাত্র সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশকে। তবে সামগ্রিকভাবে প্রথম দিনের খেলা শেষে ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা স্পষ্ট ছিল পুরো টাইগার শিবিরের মধ্যে। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিশ্বমানের স্পিন আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার আগে এ ধরনের ব্যাটিং ধস দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনের খেলা শেষে দুবাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দলের সহকারী কোচ বলেন, "উদ্বোধনী জুটিতে ১০৮ রান আসার পর এভাবে মাত্র ১২৬ রানে বাকি সব উইকেট হারিয়ে ফেলা টেস্ট মেজাজের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্যাটারদের মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে।" কোচিং স্টাফ জানিয়েছে, সোমবার ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটারদের বিশেষ করে স্পিন বোলিং মোকাবিলার দুর্বলতা দূর করতে অতিরিক্ত নেট সেশনের ব্যবস্থা করা হবে। আবুধাবির স্পিন-সহায়ক উইকেটে ভালো ফল করতে হলে মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।