বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রংপুরের ঐতিহাসিক ও নবনামকরণকৃত শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের বহুল প্রতীক্ষিত আঞ্চলিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট।
উদ্বোধনী দিনের চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক রংপুরের শক্তিশালী সদ্যপুষ্করিণী যুব সংঘকে সাডেন ডেথ টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে শুভ সূচনা করেছে পঞ্চগড় জেলা নারী ফুটবল দল।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন; এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসেনানী শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলার সূচনা বাঁশি বাজার পূর্বে পুরো স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক ও খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দেশের নতুন ইতিহাস রচয়িতা বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মুখরিত ছিল মাঠ; জাতীয় দলের একাধিক তারকা ফুটবলার উপহার দেওয়া সদ্যপুষ্করিণীর পক্ষে ২৮তম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে চোখধাঁধানো এক শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন উইঙ্গার সুমি আক্তার।
এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি পঞ্চগড়ের অদম্য কিশোরীরা; দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক ধারালো আক্রমণ শানিয়ে ৭৪তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে চমৎকার হেডে বল জালে জড়িয়ে পঞ্চগড়কে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান শারমিন খাতুন।
নির্ধারিত নব্বই মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায়; পেনাল্টি শ্যুটআউটে পঞ্চগড়ের গোলরক্ষক বৃষ্টি রানী সাডেন ডেথে অসাধারণ এক ডাইভ দিয়ে সদ্যপুষ্করিণীর শট রুখে দিলে ৫-৪ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয় পায় পঞ্চগড়।
খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, উত্তরবঙ্গের মেয়েরা খেলাধুলায় যে সাহস ও মেধার স্বাক্ষর রাখছে তা গোটা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, "আমাদের গ্রামীণ কন্যারা ফুটবল মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। শহীদ আবু সাঈদের এই স্মৃতিময় মাটিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও খেলাধুলার প্রসারে জেলা প্রশাসন সব ধরনের আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।"
রংপুর বিভাগের আটটি জেলার সেরা নারী ফুটবল দল নিয়ে আয়োজিত এই নকআউট ভিত্তিক টুর্নামেন্টের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।