বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক
সাতজন খেলোয়াড় ও দুজন কোচ—ইংল্যান্ড সিরিজের মাঝপথেই একসঙ্গে নয়জনকে স্কোয়াড থেকে ছেঁটে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন একসময়ে এই পাইকারি পরিবর্তন আনা হলো, যখন সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই; প্রথম দুই টেস্ট হেরে ইতোমধ্যেই সিরিজ খুইয়ে বসেছে সফরকারীরা।
এভাবে ঘন ঘন পাইকারি রদবদল করে পাকিস্তান ক্রিকেটের সংকটের সমাধান মিলবে না, বরং যা কিছু এখনো অক্ষত আছে তাও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। দুনিয়া নিউজ-এর একটি পডকাস্টে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিসবাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাপের মুখে হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে 'কসমেটিক সার্জারি' করার কোনো কার্যকারিতা নেই।
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের ১৯৪ রানের পরাজয়ের সময় মিসবাহ জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে দায়িত্বে ছিলেন। তবে সিরিজের মাঝপথে বোর্ডের নেওয়া এমন হঠকারী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পাকিস্তানের উত্তরণের পথ নিয়ে মিসবাহ বলেন, ‘প্রথমত, আপনাকে দল হিসেবে কাজ করতে হবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। সিদ্ধান্তে ধারাবাহিক থাকতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। কেবল ওপরের পরিবর্তনের জন্য কসমেটিক সার্জারি চালিয়ে কোনো লাভ হবে না।’
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও সামলেছেন মিসবাহ। চাপের মুখেও কীভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় অবিচল থাকতে হয়, তা বোঝাতে গিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বেই পারফরম্যান্সের এমন চড়াই-উতরাই চলে। কিন্তু তারা মূলত ভেতরে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়—রোহিত শর্মা খেলবেন কি না, কিংবা বিরাট কোহলি দলে থাকবেন কি না। কে খেলবে, কত দিন খেলবে, আর কার বিশ্রাম প্রয়োজন—এগুলো তারা ভেবেচিন্তে স্থির করে।’
তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তি দলগুলোও খারাপ সময় এলে গণমাধ্যম, সমর্থক কিংবা সমালোচকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাদের মূল পরিকল্পনায় রদবদল ঘটায় না। পাকিস্তানকেও সেই ধৈর্য দেখানোর পরামর্শ দিয়ে মিসবাহ বলেন, ‘পারফরম্যান্সের ওঠা-নামা থাকবেই। বাইরে যতই শোরগোল হোক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় স্থির থাকে। আমাদেরও ঠিক সেটাই করা উচিত।’
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরোনো রোগকে কাঠগড়ায় তুলে সাবেক এই অধিনায়ক মন্তব্য করেন, ‘আমরা যখন প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত নিই, অনেক সময় এমন কিছু ভেঙে ফেলি যা হয়তো মোটেও ভাঙা ছিল না। এরপর সেই অযাচিত ক্ষতির বোঝা আমাদের নিজেদেরই বইতে হয়।’
উল্লেখ্য, হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে পর্যুদস্ত হওয়ার পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে পাকিস্তান।