বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনক হারের মুখ দেখেছে সফরকারী দল।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসেই একশ রানের নিচে অলআউট হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। টস জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে চলে যায়। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভরা এই টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র ইতিবাচক দিক ছিল পেসার শরীফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিং ও ক্যারিয়ারসেরা ৭ উইকেট শিকার।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামায় বাংলাদেশ। টেস্টে যেকোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিং ফিগার গড়ে একাই ৭ উইকেট তুলে নেন শরীফুল ইসলাম। তবে বোলারদের এনে দেওয়া সেই লড়াই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় সম্পূর্ণ ম্লান হয়ে যায়। ইনিংস ব্যবধান এড়াতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৫ রানেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উপড়ে ফেলেন এই অজি পেসার।
এরপর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা সতর্ক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেও অষ্টম ওভারের শেষ বলে প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তানজিদ। ফলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরে ব্যাটিং ধস আরও মারাত্মক রূপ নেয়। ডাউন দ্য উইকেটে এসে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে শান্ত বিদায় নেওয়ার পর দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম বোল্ড হয়ে ফিরলে এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
ইনিংস পরাজয় এড়াতে যখন আরও ৫১ রান দরকার, তখন ৮ উইকেটে চা বিরতিতে যায় টাইগাররা। তবে বিরতি শেষে প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এবং নিজের দ্বিতীয় বলেই শরীফুল ইসলাম নাথান লায়নের শিকার হলে মাত্র ৯৫ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার দিয়ে সফর শেষ হলেও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়টি টাইগারদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। দুই ম্যাচের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত ১–১ সমতায় শেষ হলো।