বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দীর্ঘ ১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো চরম এক নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে। শনিবার রাতে লা লিগার নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে এস্পানিওলের মাঠে নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে বদলি ফরোয়ার্ড কার্লোস এসপির অসাধারণ এক গোলে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শুরুতেই রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহাম। তুর্কি তরুণ প্রতিভা আর্দা গুলারের নেওয়া একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তিনি। তবে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে স্বাগতিক এস্পানিওল। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে হাভি হার্নান্দেজের বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে সমতা ফেরান অ্যালেক্স কালাত্রাভা। এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে টানটান উত্তেজনা বজায় থাকার পর ৯০তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ভেসে আসা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাঁ পায়ের লক্ষ্যভেদে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন সাবেক লেভান্তে তারকা কার্লোস এসপি।
ম্যাচ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো নিজেদের প্রাপ্তির পাশাপাশি প্রতিপক্ষের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠের লড়াই বিবেচনায় রিয়াল মাদ্রিদ যেমন জয় পাওয়ার যোগ্য ছিল, তেমনি যেভাবে এস্পানিওল লড়াই করেছে তাতে তাদেরও পরাজয় প্রাপ্য ছিল না। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কোনো খেলোয়াড় না থাকায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, যার ইতিবাচক প্রভাব তাদের দলগত খেলায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ক্লাব ছাড়ার ১৩ বছর পর পুনরায় রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া এই বর্ষীয়ান ট্যাকটিশিয়ানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গত মৌসুমের অস্থিরতা কাটিয়ে ড্রেসিংরুমকে সুসংগঠিত করা এবং ঘরোয়া লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার একাধিপত্য ভেঙে শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। উদ্বোধনী ম্যাচে আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও বেলিংহামকে একসঙ্গে নামানোর পাশাপাশি তিনি বের্নার্দো সিলভা, ডেনজেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাটের মতো নতুন রিক্রুটদের ক্লাবের হয়ে অভিষেক করান।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আসার পর প্রথম মৌসুমে দুর্দান্ত কাটালেও পরবর্তী দুই মৌসুম শিরোপাহীন ও কিছুটা হতাশার মধ্য দিয়ে গেছে বেলিংহামের। মরিনহো তাঁকে কিছুটা মুক্তভাবে খেলার স্বাধীনতা দিয়ে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেন, যার প্রমাণ মিলেছে তাঁর শুরু থেকেই বলের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও উদ্বোধনী গোলে। এদিকে প্রথমার্ধে এস্পানিওলও বারবার রিয়ালের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে; ক্লিমেন্স রিডেলের একটি দূরপাল্লার বুলেট গতির শট থিবো কোর্তোয়া প্রতিহত করেন এবং রবার্তো ফার্নান্দেজের একটি ভলি পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে ৩০তম মিনিটে নিজেদের সেই ছন্দ ধরে রেখেই কালাত্রাভা সমতাসূচক গোলটি আদায় করে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই রূপ নেয় শারীরিক সংঘাত ও চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। গত দুই মৌসুমে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে ডি-বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া শটে এস্পানিওল গোলরক্ষক মার্কো দমিত্রোভিচের বাধা ভাঙতে পারেননি। বাঁ প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে কোনো জায়গা দিতে চায়নি স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা, যার ফলে বারবার ফাউলের শিকার হয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
ভিনিসিয়ুসের ওপর এমন আগ্রাসী ট্যাকল প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মরিনহো বলেন, ভিনি কোনো নিখুঁত চরিত্র নন, তবে তাঁর প্রতি ম্যাচজুড়ে যা করা হয়েছে তা সীমার বাইরে। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে একের পর এক ডিফেন্ডার পরিবর্তন করে তাঁকে ফাউল করা হয়েছে। কেউ একটি হলুদ কার্ড দেখলে তাঁকে তুলে নিয়ে নতুন কাউকে দিয়ে একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা চলেছে, যা একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্য চরম হতাশাজনক।
ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে শেষ ২৫ মিনিটে ক্লাব রেকর্ড সাইনিং ইয়ান দিওমান্দে এবং মার্ক কুকুরেয়াকে মাঠে পাঠান মরিনহো। ম্যাচের শেষ দিকে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দের নেওয়া একটি শক্তিশালী নিচু শট গোলপোস্টের বাইরের অংশে লেগে ফিরে আসে। ড্র যখন প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০তম মিনিটে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দলে আসা কার্লোস এসপি ডি-বক্সের জটলার মাঝে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে জয়সূচক গোলটি এনে দেন।
ম্যাচের পর চরম হতাশা প্রকাশ করে এস্পানিওল তারকা কালাত্রাভা জানান, পুরো দল কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলেও শেষ সময়ে এভাবে গোল হজম করাটা মানসিকভাবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
দিনের অন্যান্য উদ্বোধনী ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে ৩-১ গোলের সহজ জয় পেয়েছে সেভিয়া এবং গোলশূন্য ড্রতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ভ্যালেন্সিয়া ও সেল্টা ভিগো। রবিবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা তাদের প্রথম ম্যাচে এলচের মুখোমুখি হবে এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ মাঠে নামবে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে।