বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ক্যামেরন গ্রিন
ডারউইন টেস্টে দল হারলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াকু এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর সেই ১০৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসের পরও বাংলাদেশকে ঠেকাতে পারেনি অজিরা; ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। ওই হারের পর থেকেই পুরো অস্ট্রেলিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় দীর্ঘ অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। মাঠের আবহাওয়া এখন বেশ সহনীয়—তীব্র ঠান্ডা নেই, রোদের তেজও স্বাভাবিক, তবে মাঠজুড়ে রয়েছে বাতাসের আনাগোনা।
অনুশীলনে নামার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডারউইন টেস্টের অভিজ্ঞতা ও দলের মানসিক অবস্থা তুলে ধরেন গ্রিন। গত বছর ম্যাকাইয়ের এই মাঠেই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই স্মৃতিচারণা করে গ্রিন বলেন, ‘যেখানে দারুণ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে থাকে, সেখানে বারবার ফিরে আসা সবসময়ই ভালো লাগার। গতবার এখানে আমরা খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। এখানকার সুযোগ-সুবিধা সত্যি আন্তর্জাতিক মানের এবং অতীতে আমরা এখানে বেশ কিছু স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছি।’
সেঞ্চুরি সত্ত্বেও দলের বড় পরাজয়ের হতাশা নিয়ে গ্রিন অকপটে বলেন, ‘ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই সবচেয়ে বড়, তাই এমন পরিস্থিতিতে অনুভূতিগুলো আসলে পরস্পরবিরোধী হয়ে দাঁড়ায়। নিজের দিক থেকে ভালো রান পাওয়া স্বস্তির, কিন্তু দিনশেষে মনে হয় দলকে যদি এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেত যেখান থেকে ম্যাচ জেতা সম্ভব! আমরা লড়াইয়ের বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। স্কোরবোর্ডে যদি আর ৫০ থেকে ৭৫ রান যোগ করা যেত, তাহলে হয়তো ম্যাচের লাগাম আমাদের হাতে থাকত। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেটি সম্ভব হয়নি।’
সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের আগ্রাসী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ক্রিকেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অসি তারকা। গ্রিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে আমরা বিন্দুমাত্র বিস্মিত হইনি। কারণ আমরা আগে থেকেই জানতাম তারা কতটা শক্তিশালী ও গোছানো দল। তারা প্রথম দিন থেকেই অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে এবং প্রথম দিনের পর ম্যাচে আমাদের আর ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি। আমরা জানতাম বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, আর বাংলাদেশ পুরো সময় শুধু আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গেছে। তারা আমাদের একটুও ঘুরে দাঁড়ানোর জায়গা দেয়নি। আমরা নানাভাবে ম্যাচে ফেরার কৌশল চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগেনি।’
নিজের ব্যাটিং টেকনিকের পরিবর্তন প্রসঙ্গে গ্রিন জানান, কোনো বাড়তি চাপ না নিয়ে তিনি স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল আমার পুরোনো ছন্দে ফিরে গিয়ে বিষয়গুলো একদম সহজ রাখার চেষ্টা করেছি। গত কয়েক বছরে ব্যাটিংয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে জোর করে খেলার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। গত বছর শেফিল্ড শিল্ডের একটি ম্যাচে ফিরে গিয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলার পথ খুঁজে পেয়েছিলাম, সেটাই এখন ধরে রাখছি।’
ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়ে আশা প্রকাশ করে গ্রিন বলেন, ‘গত বছর সাদা বলের ম্যাচে এখানকার উইকেট দারুণ আচরণ করেছিল। টেস্টের লাল বলের উইকেটের সঙ্গে হয়তো তার সরাসরি তুলনা চলে না, তবে আমরা আশা করছি এটি একটি ভালো স্পোর্টিং উইকেট হবে—যেখানে ধারাবাহিক বাউন্স থাকবে এবং আমাদের ব্যাটারদের রান তোলার ভালো সুযোগ তৈরি হবে।’