বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

টানা ষষ্ঠবারের মতো লিগ আঁ শিরোপা জয়ের পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে ঘরোয়া আধিপত্য ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের মূল লক্ষ্য ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তৃতীয় শিরোপা জিতে অনন্য ইতিহাস গড়া।
গত মৌসুমে নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করে ১৪তম ফরাসি শীর্ষ লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছিল প্যারিসের পরাশক্তিরা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে নিজেদের ঘরোয়া ছন্দে ফেরাতে রবিবার রেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করবে পিএসজি।
মৌসুম শুরুর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিগ শিরোপা সহজ হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। তিনি বলেন, ‘মৌসুম শুরুর সময় সবাই বলে ঘরোয়া লিগ নাকি খুব সহজ। কিন্তু কোনো কিছুই সহজ নয়—অন্তত গত তিন বছরে কোনো ফরাসি লিগ মৌসুমই আমাদের জন্য সহজ ছিল না।’
গত মৌসুমে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঁসের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল পিএসজি, যা ২০২১ সালে লিলের কাছে শিরোপা হারানোর পর থেকে তাদের জন্য দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ব্যবধানের জয়। অথচ তার আগের মৌসুমে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মার্শেইয়ের চেয়ে তারা ১৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। বিগত পাঁচ মৌসুমে গড়ে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে দলটি।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ২০২৪/২৫ মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর গত মে মাসে ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে পিএসজি। ফুটবলের ইতিহাসে টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের বিরল কীর্তি রয়েছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ, আয়াক্স এবং বায়ার্ন মিউনিখের।
ঐতিহাসিক এই রেকর্ডের হাতছানি প্রসঙ্গে এনরিকে বলেন, ‘সবাই ভাবছে আমরা এবারও জিততে পারি, কিন্তু সেটা কেবলই তাত্ত্বিক হিসাব। এখন আমাদের মাঠে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ইতিহাসে সব সময় জেতা দলের সংখ্যা খুবই কম, তবে আমরা সেরাদের কাতারেই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’
কাতারের মালিকানাধীন পিএসজি চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নিজেদের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তারকাদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসের ব্যাক-আপ হিসেবে দলে ফিরেছেন ফরাসি লেফট-ব্যাক লুকাস দিনিয়ে।
দলের বর্তমান মানসিকতা নিয়ে পিএসজি মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া বলেন, ‘গত বছরের মতোই আমরা ট্রফি এবং জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত। শীর্ষ পর্যায়ে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবে আমরা শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামব।’
গত মৌসুমে গভীর স্কোয়াড থাকার সুবিধায় লিগের ম্যাচে নিয়মিত খেলোয়াড় অদলবদল করেছিলেন এনরিকে। ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে গত মৌসুমে ৩৪টি লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১১টিতে মূল একাদশে শুরু করেছিলেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ডাগআউটে ব্যাপক রদবদল
পিএসজি তাদের প্রধান কোচকে ধরে রাখলেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর ডাগআউটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। গত মৌসুমে রানার্স-আপ হওয়া লঁসের কোচ পিয়েরে সেজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দিয়েছেন। তবে নতুন কোচ দিনো টপমোলারের অধীনে গত সপ্তাহে দশ জনের দল নিয়ে পিএসজিকে হারিয়ে ফরাসি সুপার কাপ (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) জিতে দারুণ সূচনা করেছে লঁস।
লঁসের অভিজ্ঞ প্লেমেকার ফ্লোরিয়ান থোভিন জানান, ‘নতুন কোচের সঙ্গে আমার দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফুটবলের প্রতি আমাদের ভাবনা একই রকম।’
চলতি মৌসুমে লিগ আঁ-র দলগুলোতে কোচের পদ পরিবর্তনের হার নজিরবিহীন। গত মৌসুমের শুরুতে থাকা ১৬টি ক্লাবের মধ্যে কেবল চারজন কোচ—পিএসজির লুইস এনরিকে, লিওঁর পাওলো ফনসেকা, রেনের ফ্রাঙ্ক হাইস এবং লে হাভরের দিদিয়ের দিগার্দ—নিজেদের দায়িত্ব ধরে রাখতে পেরেছেন।
অন্যান্য ক্লাবের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় হাবিব বেইয়েকে বরখাস্ত করে ব্রুনো জেনেসিওকে দায়িত্ব দিয়েছে মার্শেই। অন্যদিকে জেনেসিওর ছেড়ে যাওয়া লিলের দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তির ছেলে দাভিদে আনচেলত্তি। চেলসি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক ডিফেন্ডার ফিলিপে লুইস মোনাকোর কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং চেলসিতে হতাশাজনক অধ্যায় শেষে প্যারিস এফসির দায়িত্বভার নিয়েছেন লিয়াম রোজেনিয়ার।