বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে সাড়ে তিন দিনেই ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ।
এই জয় শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি টেস্ট জয় নয়; প্রায় ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ, সেই স্মৃতিকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই প্রথম জয়।
২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবার স্বাগতিকদেরই তাদের মাটিতে ৯ উইকেটে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানেই প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
হাসান মাহমুদ মাত্র ৫৫ রান খরচ করে তুলে নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই সেরা বোলিং। তার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও দারুণ ভূমিকা রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেটই বাংলাদেশের পেসাররা শিকার করেন।
স্বাগতিকদের এমন বিপর্যয়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও শুরুতে কিছুটা সতর্ক ছিল। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।

মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার এই ইনিংস শুধু ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতকই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
তানজিদের সঙ্গে মুমিনুল হকের ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত্তি দেয়। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের কার্যকর ইনিংসে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হয়।
শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় সফরকারীরা।
২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আবার হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে এবার স্বাগতিক ব্যাটাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
মার্নাস লাবুশেন ৩১ ও স্টিভেন স্মিথ ৪৪ রান করেন। এরপর ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। গ্রিন ১৯২ বলে ১০৪ রানের সেঞ্চুরি করেন।
কিন্তু বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ তখন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। একে একে প্যাট কামিন্স, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও নাথান লায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ফিরিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। হাসান মাহমুদ পান ৩ উইকেট এবং তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৮৪ রানে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য হলেও শুরুতেই কিছুটা চাপ তৈরি হয়। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম।
তবে এবারও কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়ে অনায়াসে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা।
মুমিনুল ৩০ ও সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ১৪.২ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ডারউইনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে একক কোনো খেলোয়াড়ের অবদান নয়, বরং দলীয় পারফরম্যান্সই ছিল মূল শক্তি।
প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দেয়। এরপর তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ ও মুমিনুলের ৪৯ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও হাসান মাহমুদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এবং মিরাজের ৫ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল ও সাদমান।
পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনটি উইকেট শিকার করেন এই পেসার।

তার আগুনঝরা বোলিংয়েই ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে যায়। পরে ব্যাটারদের বড় লিড এবং মিরাজের স্পিন-জাদু সেই চাপকে পরিণত করে ঐতিহাসিক জয়ে।
২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই সফরের পর কেটে গেছে প্রায় ২৩ বছর। বদলেছে ক্রিকেটারদের প্রজন্ম, বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাস।
অবশেষে সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই এবার স্বাগতিকদের হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। তাও কোনো অল্পের জয় নয় প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সাড়ে তিন দিনেই ৯ উইকেটের বিশাল জয়।
ডারউইনের আকাশে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।