বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকার পর অবশেষে পুনরায় মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল লিগ। সোমবার (১০ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) নিশ্চিত করেছে যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মাঠে ফুটবল ফিরিয়ে আনার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রামাল্লায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজউব জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের পেশাদার ফুটবল লিগসহ যাবতীয় ক্রীড়া কার্যক্রম পুরোদমে চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর ফিলিস্তিনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত সমস্ত জাতীয় ও পেশাদার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ক্রীড়াঙ্গনের অপরপূরণীয় ক্ষতির কথা স্মরণ করে রাজউব জানান, যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দেশের অন্তত ১ হাজার ১৪ জন অ্যাথলেট ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই পুনর্বাসিত এই লিগের প্রথম টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘থাউজেন্ড মার্টায়ার্স কাপ’ (এক হাজার শহীদ কাপ)।
ভূরাজনৈতিক ও সামরিক নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অভূতপূর্ব পরিসরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মোট দুই শতাধিক ফুটবল ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে ইসরায়েল অধ্যুষিত পশ্চিম তীর থেকে ১৪৬টি ক্লাব, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে ৪৪টি ক্লাব এবং লেবাননে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে ৩৬টি ক্লাব অংশ নেবে। তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে একই দিনে একযোগে টুর্নামেন্টের খেলাগুলো গড়ায় সূচনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জিবরিল রাজউব বলেন, "এই যুদ্ধ প্রতিটি ফিলিস্তিনির জীবনে চরম নির্মম বাস্তবতা তৈরি করেছে, যার ফলে এতদিন আমাদের সমস্ত সামাজিক ও প্রতিযোগিতাভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিন্তু এর মাঝেও ফিলিস্তিনিদের জাতীয় বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি হারায়নি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, খেলাধুলা হচ্ছে আমাদের আশা ও নতুন জীবনের প্রতীক।"
যুদ্ধে ধসে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলো বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে রাজউব বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) সহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর প্রতি দ্রুত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সাথে ফিলিস্তিনি শিশু ও অ্যাথলেটদের নিজস্ব স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিয়ে খেলাধুলা করার মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবি জানান তিনি।