বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক কোচ এবং দুইবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার কেভিন কিগান মারা গেছেন। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৫ বছর বয়সে সোমবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছর কিগানের চতুর্থ পর্যায়ের (স্টেজ-৪) ক্যানসার ধরা পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি চিকিৎসা নেন। মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে পাশে ছিলেন।
বিবৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, “গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন।” একই সঙ্গে তারা এ কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
‘মাইটি মাউস’ নামে পরিচিত কিগান ছিলেন নিজের সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। লিভারপুলের হয়ে চারবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ জেতার পাশাপাশি ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুইবার বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি ব্যালন ডি'অর জয় করেন।
১৯৭৭ সালে লিভারপুল ছেড়ে জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দেন তিনি। পরে দেশে ফিরে সাউদাম্পটন ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে কোচিংয়ে পা রাখেন কিগান।
১৯৯৩ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত করেন তিনি। তার অধীনে আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠা দলটি ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর রানার্সআপ হয় এবং ‘দ্য এন্টারটেইনার্স’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
পরবর্তীতে ফুলহ্যামের দায়িত্ব পালন করেন কিগান। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। এরপর চার বছর ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে কাজ করেন এবং ২০০৮ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আবারও নিউক্যাসল ইউনাইটেডে ফিরে তার কোচিং ক্যারিয়ার শেষ করেন।
কিগানের মৃত্যুর খবরে ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউক্যাসল ইউনাইটেড এক বিবৃতিতে কিগানকে ক্লাবের ‘স্পন্দিত হৃদয়’ আখ্যা দিয়ে জানায়, তিনি সমর্থকদের নতুন আশা ও গর্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং ক্লাবটিকে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
লিভারপুলও তাদের সাবেক তারকাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, ক্লাবের ইতিহাসে কিগানের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১১ সালে দেওয়া এক বক্তব্যে কিগান বলেছিলেন, লিভারপুল তাকে শুধু একজন ফুটবলার নয়, একজন মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে।
ম্যানচেস্টার সিটি তাকে এমন একজন কোচ হিসেবে স্মরণ করেছে, যিনি ক্লাবে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিলেন। সাউদাম্পটন এবং টটেনহ্যাম হটস্পারও কিগানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ইংলিশ ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কোচ—উভয় ভূমিকায়ই কিগানের অসাধারণ অবদান ফুটবলপ্রেমীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।
এদিকে লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার কিগানকে ইংলিশ ফুটবলের ‘একজন প্রকৃত কিংবদন্তি’ বলে অভিহিত করে তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।