বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ম্যাচটি নিরাপত্তার দিক থেকে এবারের টুর্নামেন্টের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচটিকে ঘিরে এফবিআই, ফিফা, স্থানীয় পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যৌথভাবে বৈঠক করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। তাদের মূল্যায়নে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, ঐতিহাসিক বৈরিতা এবং ফুটবল মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বেগের অন্যতম কারণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধের চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। সেই রাজনৈতিক ইতিহাসও দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এ কারণে স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের জন্য পৃথক গ্যালারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন ও ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াইও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। বিশ্বকাপে এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড, আর ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ম্যাচেই কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। একই ম্যাচে তিনি একক নৈপুণ্যে যে গোলটি করেছিলেন, সেটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
প্রায় ২১ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। এবার ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে সামলানো। ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির বিপক্ষে বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছে ইংলিশরা।
রাজনৈতিক ইতিহাস, ফুটবলীয় বৈরিতা, বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াই সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালটি শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।