বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের শক্তিধর চার দেশ আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দলই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে এই দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। অতীতের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সাম্রাজ্য বিস্তার, ভূখণ্ড দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও উপনিবেশিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে। এসব সংঘর্ষ শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নয়, বিশ্ব রাজনীতির গতিপথও বদলে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ চারের উত্তেজনার মধ্যেই ফিরে দেখা যাক এই চার দেশের ঐতিহাসিক সংঘাতগুলোর দিকে।
ইংল্যান্ড–ফ্রান্স: শতবর্ষের যুদ্ধ (১৩৩৭–১৪৫৩)
ইউরোপের দীর্ঘতম সংঘাতগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার 'শতবর্ষের যুদ্ধ'। ১৩৩৭ সালে শুরু হয়ে প্রায় ১১৬ বছর ধরে দফায় দফায় এই যুদ্ধ চলে।
সংঘাতের মূল কারণ ছিল ফরাসি সিংহাসনের উত্তরাধিকার এবং ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের ওপর ইংল্যান্ডের দাবি। যুদ্ধের প্রথম দিকে ইংল্যান্ড সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও পরিস্থিতি পাল্টে যায় তরুণী জোয়ান অব আর্কের নেতৃত্বে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ফরাসি বাহিনীকে সংগঠিত করেন এবং ১৪৫৩ সালে ফ্রান্সের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

ইংল্যান্ড–স্পেন যুদ্ধ (১৫৮৫–১৬০৪)
ষোড়শ শতকের শেষভাগে ধর্মীয় মতপার্থক্য, উপনিবেশ বিস্তার এবং সমুদ্রপথের বাণিজ্যিক আধিপত্য নিয়ে ইংল্যান্ড ও স্পেনের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছে।
১৫৮৮ সালে স্পেন বিশাল নৌবহর বা 'স্প্যানিশ আর্মাডা' পাঠিয়ে ইংল্যান্ড আক্রমণের চেষ্টা করলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও ইংরেজ প্রতিরোধে সেই অভিযান ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ সংঘর্ষের পর স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের মৃত্যুর পর ১৬০৪ সালে লন্ডন চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের যুদ্ধের অবসান ঘটে।
ফ্রান্স–স্পেন যুদ্ধ (১৬৩৫–১৬৫৯)
ইউরোপে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৬৩৫ সালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ফ্রান্স ও স্পেন। শুরুতে এটি 'থার্টি ইয়ার্স ওয়ার'-এর অংশ হলেও পরে স্বাধীন সংঘাতে রূপ নেয়।
প্রায় ২৪ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৬৫৯ সালে 'ট্রিটি অব দ্য পিরেনিস' স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই যুদ্ধের পর থেকেই ইউরোপে স্পেনের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমতে শুরু করে।
আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড: ফকল্যান্ড যুদ্ধ
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়।
১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতে থাকলেও আর্জেন্টিনা এটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছিল। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনাবাহিনী দ্বীপটি দখল করলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের নির্দেশে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। স্থল, নৌ ও আকাশপথে সংঘর্ষের পর ১৪ জুন আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না হলেও ১৮৪৫ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে উরুগুয়ের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সে সময় ফরাসি ও ব্রিটিশ নৌবাহিনী বুয়েনস আইরেস বন্দরের নৌবাণিজ্য অবরোধ করেছিল যা দুই পক্ষের সম্পর্ককে তীব্র করে তোলে।
আর্জেন্টিনা–স্পেন
১৮১০ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে স্বাধীনতা সংগ্রামে নামে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ এই যুদ্ধে আর্জেন্টাইন বিপ্লবী বাহিনী স্প্যানিশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা অর্জন করে।