বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

কেভিন পিনাকে ভোজিনিয়ার সান্ত্বনা। আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও রোমান্থনের অনেক স্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরছেন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা- ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। কিন্তু পরাজয়ের পরও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে তারা।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে স্কোরলাইন পুরো গল্প বলে না। কারণ ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দে দেখিয়েছে অসাধারণ সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াকু মানসিকতা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফিরেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে ভেঙে যায় তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা পাওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবেই তারা ইতিহাস গড়েছে। বড় কোনো ফুটবল পরাশক্তি না হয়েও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রাখা, উরুগুয়ের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত চাপে রাখা সব মিলিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে তারা।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লিওনেল মেসি। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। মেসির নিশ্চিত গোলও রুখে দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
কেপ ভার্দের হয়ে দেরয় দুয়ার্তে ও সিদনি কাব্রাল গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে কাব্রালের গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি কেপ ভার্দের। আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিফেন্ডার বোর্জেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হলে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। তবু পরাজয়ের পরও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ে দলটি।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেন, “আমরা বিশ্বের সামনে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছি।” আর ডিফেন্ডার পিকু লোপেসের ভাষায়, এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করে না, কেপ ভার্দে কোথায়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু দল থাকে, যারা ট্রফি জিততে না পারলেও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ঠিক তেমনই একটি নাম।
আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও তাদের সাহস, লড়াই আর স্বপ্ন দেখানোর গল্প অনেক দিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।