বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহা -ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিল ৩–০ ব্যবধানে হাইতিকে হারালেও স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির, পারফরম্যান্স ততটা নয় এমনই মত ফুটবল বিশ্লেষকদের। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহা। তবে পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলায় ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক বৈচিত্র্যের ঘাটতি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের চাপ নিয়ে নামা ব্রাজিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচে কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোল ব্রাজিলকে সহজ জয় এনে দেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলের গতি কমে যাওয়ায় বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের আক্রমণ অনেকাংশে বাম দিকনির্ভর হয়ে পড়ছে আর ডান প্রান্ত এখনো কার্যকর সমন্বয় খুঁজে পায়নি। ফলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ৯ নম্বর জার্সি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন কুনহা। তার ভাষায়, এই জার্সি কোনো চাপ নয় বরং গর্বের প্রতীক।
তিনি বলেন, ব্রাজিলের ইতিহাসে রোনালদো নাজারিওসহ অনেক কিংবদন্তি এই জার্সি পরেছেন। সেই ধারার অংশ হতে পারা এবং দলের জন্য গোল করতে পারা তার কাছে বিশেষ সম্মানের।
বিশ্বকাপে নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পেরে সন্তুষ্ট এই ফরোয়ার্ড জানান, দলে অবদান রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
গোল করার পর কুনহার উদযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ‘সার্ফিং সেলিব্রেশন’ নামে পরিচিত একটি ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করেন, যেখানে তিনি প্রথমে ঘাসে শুয়ে প্যাডেল করার ভঙ্গি করেন এবং পরে দাঁড়িয়ে ব্যালেন্স নেওয়ার মতো করে হাত প্রসারিত করেন।
কুনহা জানান, সার্ফিং তার জীবনের বড় অংশ। জোয়াও পেসোয়ার ছেলে হিসেবে সমুদ্রের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তিনি নিজেকে ফুটবলের চেয়ে সার্ফিংপ্রেমী বলেও উল্লেখ করেন। বন্ধুদের পরামর্শে তিনি তার উদযাপন আরও নিখুঁত করেছেন বলেও জানান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
হাইতির মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে জয় পেলেও ব্রাজিলের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী হওয়ায় এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ার্ধে দলের নিষ্প্রাণ খেলা এবং ডান প্রান্তের দুর্বলতা কোচিং স্টাফের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ জিততে হলে ব্রাজিলকে শুধু জয় নয়, খেলার নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করতে হবে।
ম্যাচে কুনহার পারফরম্যান্স ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন বিকল্প তৈরি করেছে। ভিনিসিয়ুস ও কুনহার বোঝাপড়া কিছুটা হলেও আক্রমণে প্রাণ ফিরিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।