বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের শক্তিধর দেশগুলোর তালিকায় সেনেগালের নাম খুব বেশি উচ্চারিত হতো না কয়েক বছর আগেও। কিন্তু সময় বদলেছে। আফ্রিকার এই দলটি এখন শুধুই অংশ নিতে নয় বরং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, তারকাবহুল স্কোয়াড এবং দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখা হচ্ছে সেনেগালকে।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে ছিল দলটি। পুরো বাছাইয়ে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা।
শুধু তাই নয়, নিজেদের সর্বশেষ ১০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে হার দেখেছে মাত্র একটিতে। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সই ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে সেনেগালকে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দলটির বর্তমান স্কোয়াডকে সেনেগালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি, ইদ্রিসা গানা গেয়ে ও এদুয়ার মেন্দির মতো তারকারা এখনো দলে আছেন। অনেকের জন্য এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। তাই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন তারা।
সেনেগালের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ পাপে থিয়াওও বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুধু অংশগ্রহণ নয়, এবার তাদের লক্ষ্য ট্রফি জেতা। তার মতে, বর্তমান দলে সেই সামর্থ্য ও মানসিকতা দুটোই রয়েছে।
সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে ফুটবল ফেডারেশনের পরিকল্পনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ইউরোপে বেড়ে ওঠা সেনেগালি বংশোদ্ভূত তরুণদের জাতীয় দলে আনার কৌশল কাজে দিয়েছে দারুণভাবে। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলা কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলারকেও নিজেদের দলে টানতে সক্ষম হয়েছে সেনেগাল।
তবে সেনেগালের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে কঠিন এক বাস্তবতা। দেশটির স্থানীয় ফুটবল অ্যাকাডেমিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর জন্য প্রতিভা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। অল্প টাকায় তরুণ খেলোয়াড়দের ইউরোপে নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে কোটি কোটি ডলারে বিক্রি করেছে বড় ক্লাবগুলো। এতে ইউরোপীয় ক্লাবগুলো বিপুল মুনাফা করলেও স্থানীয় ক্লাব ও অ্যাকাডেমিগুলো তেমন আর্থিক সুবিধা পায়নি।
স্থানীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এটি এক ধরনের ফুটবলীয় শোষণ। তাদের দাবি, আফ্রিকার প্রতিভা ব্যবহার করে ইউরোপের ক্লাবগুলো ধনী হচ্ছে, অথচ স্থানীয় ফুটবল কাঠামো এখনো অবহেলিতই রয়ে গেছে।
তবে সব প্রতিকূলতাকে শক্তিতে পরিণত করেই এগিয়ে যাচ্ছে সেনেগাল। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর শোষণের ইতিহাস পেছনে ফেলে এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করতে চায় আফ্রিকার এই দলটি। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেনেগাল কতটা দূর যেতে পারে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।