বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
দেশে জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল গেমসের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে জনপ্রিয় গেম যেমন PUBG Mobile, Call of Duty: Mobile এবং EA Sports FC-এর ইন-অ্যাপ পারচেজ, সাবস্ক্রিপশন ফি, ভার্চুয়াল কারেন্সি ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের অনলাইন গেমিং বাজারের আকার দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপুল সংখ্যক তরুণ ও কিশোর নিয়মিত এসব গেম খেলছেন এবং অনেকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমেও আয় করছেন। কিন্তু এই খাতের বড় অংশের আর্থিক লেনদেন এখনো করের আওতার বাইরে রয়েছে।
সরকার মনে করছে, অনলাইন গেমিং খাতকে কর ব্যবস্থার মধ্যে আনলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে অন্যদিকে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত অর্থ লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থপাচারও কমানো সম্ভব হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্তত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে বছরে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হতে পারে।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ডিজিটাল গেমিং খাত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এবং অনেক আগেই এটি করের আওতায় আনা উচিত ছিল।
তবে প্রযুক্তি খাতের অনেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক সেবায় অতিরিক্ত কর আরোপ ডিজিটাল সমাজ গঠনের পথে বাধা হতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা ভিপিএন বা বিকল্প উপায়ে গেম ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, সরকারকে আগে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে কোন গেম দক্ষতাভিত্তিক এবং কোনটি জুয়া বা বেটিংয়ের আওতায় পড়ে। আইনি কাঠামো পরিষ্কার না হলে ভবিষ্যতে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
এদিকে সরকার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক কার্ড ও অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট কর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে বিদেশি গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অনলাইন গেমিংয়ে কর আরোপ করেছে। ভারত অনলাইন গেমিংয়ে ২৮ শতাংশ জিএসটি চালু করেছে। এছাড়া পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল সেবার ওপর কর আরোপ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি গেমিং কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে সরাসরি অফিস না থাকায় কর আদায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সরকার বলছে, দেশের প্রচলিত আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং নিষিদ্ধ বা জুয়াভিত্তিক গেমস কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে না।