বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে দেশে ফেরা হয়নি বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের। আইনি জটিলতায় আটকে পড়ায় তিনি প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে রয়েছেন।
দেশে ফিরতে হলে চলমান জটিলতা সমাধান করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড তাকে ফেরাতে উদ্যোগ নিলেও, তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই সাকিবের। তিনি বলেন, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চান।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই অলরাউন্ডার দেশের একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ও প্রত্যাশার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, সবকিছু থেকে দূরে থাকার ভালো সাইড, খারাপ সাইড আছে। এখন কী বলব… বলার কিছু আসলে দেখি না। বিষয়টাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব, আমার আসলে জানা নেই ভালোভাবে।
ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ার নিয়ে যা হচ্ছে; দূর থেকে এসব দেখে বিষয়টা আপনার কাছে কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কে আসল, কে গেল কিংবা এটা হলে কী হতো এসব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। একটা কথাই বলব, যেটা আমি কিছুদিন আগে বলেছিলাম, প্লেয়াররাই কেবল ভুক্তভোগী। এখন যেহেতু একটা বোর্ড এসেছে, তাদের (পরিচালক) বেশিরভাগই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছে। আশা করি লিগটা দ্রুত শুরু হবে, প্লেয়ারদের জন্য উপকার হবে।
ক্রিকেট বোর্ডে ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতো সাবেক অধিনায়করা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এটা কি আপনাকে হতাশ করে- এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। তবে আমার মনে হয়, তাদের ব্যর্থতার চেয়ে তখন যারা সরকারে ছিল, তাদের দায়টাই বেশি। তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বুলবুল ও ফারুক ভাই ব্যর্থ হয়েছেন বলেই আমার মনে হয়।
এই ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপেই বোর্ডগুলো গঠন করা হয়েছে। শেষ তিনটি বোর্ড যদি দেখেন, কে বোর্ডে যাবে, সেটাও সরকারই ঠিক করেছে। আমার মনে হয়, এই কারণেই এই ডিজাস্টারটা হয়েছে। এখন নতুন বোর্ড এসেছে, আশা করি সরকারের হস্তক্ষেপ কম থাকবে। একটা নির্বাচন হওয়ার কথা, সেটি হলে তো খুব ভালো। আর তা না হলে, যেভাবে আমাদের বাংলাদেশে হয়ে থাকে, সেভাবেই থাকবে!
একজন সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল এখন বোর্ড সভাপতি, তাকে নিয়ে প্রত্যাশা জানতে চাইলে দেশসেরা এ ক্রিকেটার বলেন, আশা করছি ভালো কিছুই হবে। ভালো ইনটেনশন নিয়ে, আশা করি সে এসেছে। ইনটেনশন যদি ভালো থাকে, ভালো কিছু করতে পারবে বলেই আমি মনে করি।
রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে আর কথা না বলি। এগুলো নিয়ে কথা বললে, ওটা নিয়ে বেশি ঝামেলা হয়। রাজনীতি বাদ থাক।
নিয়মিতভাবেই আলোচনা হয় সাকিব দেশে ফিরছেন, দেশের হয়ে খেলবেন। বাস্তবিক অর্থেই কি সাকিবকে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখতে পারবে জানতে চাইলে সাকিব আল হাসান বলেন, এটা তো সময়ই বলে দেবে। এটা আমি কীভাবে বলি? আমি যদি ফিট থাকি, খেলতে থাকি, কেসগুলোর সমাধান হয়; এরপর যদি দেশে ফিরতে পারি, বিসিবি যদি আমাকে নিতে চায়, তবেই তো আসলে খেলতে পারব। এটা লম্বা প্রক্রিয়া। এগুলো তো সব সময়ের অপেক্ষা। এই মুহূর্তে আসলে বলা খুব কঠিন। দেখা গেল, আমি আজকে আপনাকে বললাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমি আর সুযোগ দেখি না। কালকেই সরকারের সদিচ্ছা হলো একজনকে অহেতুক ঝামেলার মধ্যে ফেলব না। যেহেতু আমার মামলাগুলো ভুয়া। যদি সেটা হয়, তাহলে অবশ্যই খেলতে চাইব। পুরো বিষয়টাই আসলে মামলাগুলো ডিসমিসের ওপর নির্ভর করছে।
আগের বোর্ডের অধীনে আপনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়েছিল বলে আলোচনাপ আছে, এখনকার বোর্ডের কারও সঙ্গে কি যোগাযোগ হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না। কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। আগের বোর্ড যে খুব বেশি এগিয়েছিল, সেটিও না। মুখে মুখে হয়তো একটা চেষ্টা তারা করছিল। কিন্তু চেষ্টাটা আসলে মুখে মুখেই হয়েছে বলে আমার ধারণা। এই চেষ্টাটা আসলে কাগজে-কলমেই বেশি হতে হয়। আগের বোর্ডের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। তারা বলছিল, তারা চেষ্টা করছে। আমার আসলে তাদের কথার ওপর আস্থা রাখা ছাড়া কিছু করার ছিল না।
নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেছিলেন, ‘সাকিবকে ফিরতে হলে আইনি বাধা মোকাবিলা করতে হবে’। সেক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে অলরাউন্ডার বলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছি, মোকাবিলা যেভাবে করতে হয় করবো। যেহেতু রাজনৈতিক মামলা, মনে হয় রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করে ফিরতে হবে।
নতুন নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘আপনাকে এক বা দুই ম্যাচের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনায় রাখতে চান তিনি। যদি দেশে ফিরতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে এখনই বলা কঠিন। আগে বলেছি, আগে আমার দেশে ফিরতে হবে, মামলাগুলো নিষ্পত্তি হতে হবে। এই বিষয়গুলোর আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সমাধান হবে না। মুখে বলে ফেললাম আর সব হয়ে গেল, বিষয়টা তেমন না। আগের বোর্ড কিছুটা চেষ্টা করেছিল, যদিও সেই চেষ্টা আসলে কাগজে-কলমে কতটা ছিল, আমি নিশ্চিত নই। জানি না সামনে কী হবে… কতদিন খেলব, কী পরিকল্পনা, এসব আসলে অনেক পরের ব্যাপার।