বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ছবি
সরকার আসে, সরকার যায় নির্বাচিত হোক বা অন্তর্বর্তীকালীন। তবুও বাংলাদেশ ক্রিকেট রাজনীতির দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত হতে পারছে না। সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা গেল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
নতুন গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। তিনি ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনে থেকে সরে গিয়েছিলেন।
অ্যাডহক কমিটিতে আছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা, যেমন: বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী আইনজীবী রাশনা ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরু।
এছাড়া জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন: মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
গত নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম নিয়ে তামিমসহ নতুন অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, তার সহকারী ও অন্যান্য কর্তা সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
এনএসসি তাদের ২০১৮ সালের নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সংবিধানগতভাবে সংবেদনশীল।
ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপ বৈধ না তাই আইসিসির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এনএসসি ইতিমধ্যেই আইসিসিকে অ্যাডহক কমিটি ও নির্বাচনের তথ্য পাঠিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ লবিং কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন।
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এখনও নিজেকে ‘বৈধ সভাপতি’ দাবি করছেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এনএসসির তদন্তকে ‘এখতিয়ারবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে পরিচালিত হতে হয়। এনএসসির এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসা, কোনো আইনগত প্রক্রিয়া নয়। প্রতিবেদন ‘quo non judicibus’, অর্থাৎ এখতিয়ার না থাকার কারণে বাতিলযোগ্য।
নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘটনাকে আমিনুল ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ ও ‘প্রহসনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
আমিনুলের দাবি, হাইকোর্ট ভিন্ন কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি। পাশাপাশি বোর্ডের কয়েকজন পরিচালক বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
ঘটনার অর্থ স্পষ্ট রাজনীতি ও চেয়ার দখলের খেলা মাটির খেলাকে প্রাধান্য হারাচ্ছে। ক্রিকেটীয় উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
অ্যাডহক কমিটি গঠন হলেও ক্রিকেটের মূল লক্ষ্য, মাঠের খেলা ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ, পিছনে চলে গেছে। আদালত, আইসিসি এবং রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।