বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ, উদযাপন আর উদ্দীপনার শেষ নেই। চার বছর পরপর বিশ্বকাপের উত্তেজনা যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো দেশ পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। ছাদগুলোয় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানিসহ নানা দেশের পতাকা উড়তে থাকে। অলিগলি, পাড়ামহল্লা থেকে এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে-কানাচে।
ফুটবল নিয়ে এই আবেগ ছড়িয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আবাহনী-মোহামেডানের সেই স্বর্ণযুগ থেকে শুরু করে আজকের আন্তঃবিদ্যালয় এবং এলাকাভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা– কোনো ক্ষেত্রেই এই উদ্দীপনা কমেনি। মানুষের উদ্দীপনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের মান, সম্প্রচার সুবিধা, ম্যাচ আয়োজনের মান, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সেই প্রয়োজনেই মতিঝিলে অবস্থিত ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রংবেরঙের নতুন সিট, এলইডি স্ক্রিন, টিম প্যাভিলিয়ন, কিট স্টেশন, টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশদ্বারগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মান বজায় রাখতে তৈরি করা হয়েছে মেডিকেল চেম্বার, ডোপ-টেস্ট রুম, সাব-স্টেশন এবং আধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম।
মিডিয়া সেন্টারে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সম্প্রচার সুবিধা। ফলে সরাসরি সম্প্রচারের মান আরও উন্নত এবং ম্যাচ-ডে রিপোর্টিং আরও দক্ষ ও মানসম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন হয়েছে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক। এ ছাড়া খেলোয়াড় ও টিম স্টাফদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিআইপি ও প্রেসিডেনশিয়াল বক্সগুলোও সংস্কার করা হয়েছে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করলে ভিআইপি অতিথিরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
অন্যতম আরেকটি পরিবর্তন এসেছে স্টেডিয়ামের লাইটিংয়ে। আমাদের বেশির ভাগ স্টেডিয়ামে আগে মেটাল-হ্যালাইড বা সোডিয়াম-বেসড ফ্লাডলাইট ব্যবহৃত হতো। এই লাইটে ছিল নানা সমস্যা। এই লাইটগুলো জ্বলে উঠতে সময় লাগত, আলো প্রায় প্রায় ক্ষীণ হয়ে যেত, মাঠের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত আলো পৌঁছাত না।
দর্শকের মুখে এমন পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রায় শোনা যেত যে, বল পাস করার সময় বল হঠাৎ অন্ধকার অংশে ঢুকে গেছে। এ ছাড়াও অন্ধকার অংশে খেলোয়াড়দের পজিশন স্পষ্ট দেখা যেত না। সম্প্রচারকারীরা অন্ধকার, শ্যাডোড, অস্পষ্ট রং ও অল্প আলোয় ক্যামেরা ঠিকভাবে ফোকাস করতে না পারার সমস্যাগুলো ছিল খুবই নিত্যনৈমিত্তিক। ফলে ক্লাসিক ফুটবলের আবেগ থাকলেও, খেলা দেখার অভিজ্ঞতাটা কখনোই পরিপূর্ণ হতো না। দর্শকরা গ্যালারিতে বসে ম্যাচ উপভোগ করার বদলে যেন এক প্রকার খেলা আন্দাজ করে নিয়েই দেখতেন।
তবে এই দৃশ্য এখন বদলে গেছে। স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা, দর্শক অভিজ্ঞতা, সম্প্রচারসহ সবেতেই নতুনত্ব আসছে। এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নতুন ইনস্টলড ৩৮০টি আধুনিক এলইডি ফ্লাডলাইট। এই লাইটগুলো জ্বলতে যেমন সময় নেয় না, তেমনি অনেক উজ্জ্বল; আলো চোখে লাগে না এবং পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এর ফলে খেলোয়াড়দের মুভমেন্ট, বলের গতি, মাঠের টেক্সচার ইত্যাদি সবই স্পষ্ট দেখা যায়। একইসাথে সম্প্রচারের মান উন্নত হয়েছে। এখন কালার-গ্রেডিং আরও নান্দনিক হয়েছে। প্রতিটি ইভেন্ট স্পষ্টভাবে ক্যামেরায় ধরা দেয়, এমনকি অনলাইন দর্শকরাও এইচডি কোয়ালিটিতে খেলা দেখতে পাচ্ছেন। প্রতিটি কেবল ও সার্কিট ব্রেকার দ্বিগুণ রেটিং অনুযায়ী স্থাপন করা হয়েছে; যাতে ওভারলোড বা ভোল্টেজের ওঠানামার কোনো ঝুঁকি না থাকে। এই লাইটিংয়ের সংস্কার কাজগুলো বুয়েটের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের পরামর্শ অনুযায়ী ফিফা ও এএফসি’র গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এএফসি’র পরিদর্শন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
এনএসসি কর্তৃক নিযুক্ত, বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি টাওয়ারে ৫৫টি করে ৪টি টাওয়ারে মোট ২২০টি এলইডি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। বুয়েটের নির্দেশনায়, অবশিষ্ট ১৬০টি ফ্লাডলাইট ক্যানোপিতে স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সাইজের ক্যাবল, পাইপ, সাব-স্টেশন ইকুইপমেন্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। ফ্লাডলাইটগুলো সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) ম্যাচ কমিশনার লাইটের আলো পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। টটেনহ্যাম হটস্পারস স্টেডিয়াম, ফ্র্যাটন পার্ক, বায়ারিনা (বে-এরিনা), অপটাস স্টেডিয়াম, কুইন এলিজাবেথ অলিম্পিক স্টেডিয়াম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাজ্জা বিন জায়েদ ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর মতো জনপ্রিয় সব ফুটবল স্টেডিয়ামের মতো করে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আধুনিক ক্যানোপি-ভিত্তিক এলইডি ফ্লাডলাইট ব্যবহার হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি, সংস্কার-সংযোজন, উজ্জ্বল আলোর প্রভাব দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি অনুভবও করছেন।
এই সাম্প্রতিক উন্নয়ন যে সকলের ভেতরে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, তার সর্বশেষ উদাহরণ, দীর্ঘ ২৩ বছর পর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। এ ছাড়া সম্প্রতি হংকং, সিঙ্গাপুর, ভুটানের সঙ্গে ম্যাচগুলোয় মোরসালিন-হামজা-শমিতদের ফাইটিং মেন্টালিটি ও দুর্দান্ত স্কিল ফুটবলের প্রতি দর্শকদের নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, দর্শকদের সমর্থন, গ্যালারির পরিবেশ– সবকিছু মিলিয়ে এক নতুন ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে উঠছে বাংলাদেশে।
স্টেডিয়ামের সামগ্রিক পরিবেশ পরিবর্তনেও এই নতুন এলইডি ফ্লাডলাইটগুলো ভূমিকা রাখছে। গ্যালারি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। দর্শকরা দূর থেকেও খেলোয়াড়দের মুভমেন্ট, এক্সপ্রেশন, ছোট ছোট ডিফেন্সিভ মুভগুলো দেখতে পাচ্ছেন। উজ্জ্বল আলো খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলছে। অস্পষ্ট আলো-ছায়ার কারণে যেসব ভুল হতো সেগুলো কমে গেছে। ড্রেসিং রুম, টানেল, প্রবেশপথ– সবই এখন আরও নিরাপদ ও মানসম্মত দেখাচ্ছে। ধারাভাষ্যকারদের জন্যও এই লাইট বেশ সহায়ক হচ্ছে। তাঁরা এখন আরও ভালোভাবে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে পারছেন।
ফুটবলের সত্যিকারের আনন্দ কেবল গোল দেওয়া বা জয়ে নয়। দর্শকদের শোরগোল, খেলোয়াড়দের দক্ষতা, সম্প্রচারের স্বচ্ছতা, স্টেডিয়ামের আলো, প্রতি মুহূর্তে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই নির্ভর করে আনন্দ। আগামীতে আরও আধুনিক ও আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম তৈরি হলে বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে– এটিই প্রত্যাশা।-স্পন্সরড কনটেন্ট