বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে শুধু কৌশলগত লড়াই নয়, বরং ফকল্যান্ডস যুদ্ধের গভীর আবেগও আর্জেন্টাইন স্কোয়াডকে তাতিয়ে তুলেছিল বলে জানিয়েছেন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে তুলে ধরার নির্দেশনা থাকলেও ড্রেসিংরুমের ভেতরে ইতিহাস ও দেশের সম্মান রক্ষার আবেগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
গত ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ৯২ মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাসে জয়সূচক গোলটি করে ফাইনালে দলকে তোলেন ইন্টার মিলানের এই তারকা। গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের আর্জেন্টাইন বীর সেনাদের।
এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের গোলের আবেগঘন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন লাউতারো। সেখানে তাঁকে এক যুদ্ধ প্রবীণের কান্নার ভিডিও দেখানো হলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। লাউতারো বলেন, "আজ আমরা যে গোল তাদের উৎসর্গ করতে পারছি, তা তাঁদের আত্মত্যাগের জন্যই। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে কীভাবে বুক চিতিয়ে লড়তে হয়, এই প্রবীণরাই আমাদের তা শিখিয়েছেন।"
ম্যাচের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক ও যুদ্ধের স্মৃতি মাঠের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে লাউতারো স্বীকার করেন, দলের অভ্যন্তরীণ আবহ ছিল অন্যরকম। তিনি বলেন, "ক্যামেরার সামনে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়েছিল, কারণ এটা ফুটবল। কিন্তু ভেতরের অনুভূতি সাধারণ কোনো ম্যাচের মতো ছিল না। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি পুরো দলকে এক অসাধারণ শক্তি জুগিয়েছিল।"
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ৭৪ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারান আর্জেন্টিনার ৬৫৫ ও যুক্তরাজ্যের ২৫৫ সেনা সদস্য। ম্যাচ শেষে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও লো চেলসো 'লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস' লেখা ব্যানার প্রদর্শন করলে রাজনৈতিক বার্তার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে ফিফা। পরবর্তীতে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই স্মরণীয় জয়কে উদ্যাপন করতে ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দিবস ঘোষণা করেছে এএফএ।