বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি মুহূর্ত
ভারতে চলমান পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমানে সমান লড়াই করে ২-২ ব্যবধানে সমতা টেনেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাঠের লড়াইয়ে ক্যারিবিয়ানরা পরাক্রমশালী ভারতীয় দলের চোখে চোখ রেখে খেললেও আর্থিক প্রাপ্তির দিক থেকে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো ও নির্মম।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেরিং জানিয়েছেন, চলতি এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারে। অথচ বিপরীতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড পাচ্ছে শূন্য। তবে এর জন্য তিনি ভারতের প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করেননি; বরং ক্রিকেটের ত্রুটিপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিকেই এই আর্থিক বৈষম্যের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
জনপ্রিয় ক্রিকেট শো ‘দ্য স্কুপ’-এ সঞ্চালক অঞ্জলি দোশির মুখোমুখি হয়ে ডেরিং বলেন, ‘এখানে আমাদের বোর্ডের কোনো অংশীদারত্ব নেই। পুরো সিরিজটি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভারতীয় বোর্ড এখান থেকে হয়তো দুই বা তিন কোটি ডলার ঘরে তুলবে, অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পকেটে আসবে না একটি পয়সাও।’
আইসিসির এই একতরফা নিয়মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেরিং ফিরে যান ১৯৯৭ সালে। তিনি জানান, সেই সময় পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে সফরকারী দলগুলোকে স্বাগতিক বোর্ডগুলো নির্দিষ্ট অঙ্কের নিশ্চিত ‘ট্যুর ফি’ দিত। সেই আমলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকায় বিভিন্ন দেশ সফর করেই তাদের মূল আয় নিশ্চিত হতো, যা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সিরিজ আয়োজন করে উপার্জিত আয়ের চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
কিন্তু ১৯৯৭ সালে আইসিসির ১০টি সদস্য দেশের মধ্যে ৯টি দেশই নতুন এক কাঠামোর পক্ষে ভোট দেয়। সেই বিতর্কিত নিয়মে বলা হয়—দ্বিপক্ষীয় সিরিজের টেলিভিশন সম্প্রচার ও স্পনসরশিপের যাবতীয় আয় কেবল স্বাগতিক বোর্ডই নিজেদের কাছে রেখে দেবে। একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া বাকি ৯টি দেশই নিজেদের অনুকূলে ভোট দেওয়ায় ক্যারিবিয়ানদের পরাজয় ঘটে।
এই নিয়মের চরম বৈষম্য বোঝাতে গিয়ে ডেরিং বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের কারণে ভারত তাদের প্রায় দেড় শ কোটি জনসংখ্যার বিশাল বাজার থেকে উপার্জিত শতভাগ অর্থ নিজেদের কোষাগারে রাখছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টিকে থাকতে হচ্ছে অ্যান্টিগার মাত্র এক লাখ কিংবা সেন্ট কিটসের ৩০ হাজার মানুষের ছোট বাজারের টিকিট ও সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করে।’
ডেরিং স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি ছিল সম্পূর্ণ অবিচার। ভোটাভুটিতে আমরা ৯-১ ব্যবধানে হেরেছিলাম। আমি তখনই সতর্ক করে বলেছিলাম, এই নিয়ম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে। কারণ রাতারাতি আমাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধানতম মাধ্যমটি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
এই কাঠামোগত রাজস্ব বৈষম্যের কারণে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে গভীর আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ২৫ শতাংশ কমিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বার্ষিক চুক্তির মেয়াদ ছেঁটে সাত মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে।