বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত হারের মুখে থাকা পাকিস্তান অবিশ্বাস্যভাবে ১ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে অলরাউন্ডার শাদাব খানের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ওপর ভর করে। ৯৬ বলে ১১৩ রানের অপরাজিত এক বীরোচিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এর ফলে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকল।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ২৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ওপেনার ফখর জামান ও বাবর আজম প্রত্যেকে ১০ রান করে গাস অ্যাটকিনসনের শিকার হন এবং সাইম আইয়ুব ৬ রান করে হেনরি ক্রোকম্বের বলে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর চাপ সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টায় সাদ বাইগ ও সালমান আলি আগা চতুর্থ উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। তবে দলীয় ৭৪ রানে জেমি ওভারটনের বলে ৩২ রান করা সাদ বাইগ আউট হলে এই জুটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে উইকেটে থিতু হতে পারেননি হাসান নওয়াজও; দলীয় ১০২ রানের মাথায় তিনি লিয়াম ডসনের বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হন। বোর্ডে মাত্র ১ রান যোগ হতেই ওভারটনের শিকার হয়ে ১ রানে ফিরে যান আরাফাত মিনহাস, যার ফলে ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
২৬ রান করে সালমান আলি আগাও ফিরে গেলে ১২২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার সব আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর দ্রুত বিদায় নেন অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি (৪) ও রাজাউল্লাহ (৮)।
১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন হারের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এক মহাকাব্যিক ইনিংসের সূচনা করেন শাদাব খান। ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে সাজানো বিধ্বংসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ১১৩ রান করে পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে শাদাবকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে মাত্র ৭ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন পেসার হারিস রউফ।
এর আগে নিজেদের আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করানো ইংল্যান্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে গুটিয়ে যায় মাত্র ২৪১ রানে। ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে পাকিস্তানি বোলারদের আঁটসাঁট ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং শুরু থেকেই চাপে রাখে ইংলিশ ব্যাটারদের। বেন ডাকেট একাই লড়াই করে শতক হাঁকালেও দলের বাকিদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি তারা।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই সফরকারীদের ৪টি উইকেট তুলে নেয় স্বাগতিক বোলাররা; ইংল্যান্ড ৯.১ ওভারে ৫২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বল হাতে নেতৃত্ব দিয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন স্বয়ং অধিনায়ক আফ্রিদি। টম ব্যান্টন (৪) ও জো রুটকে (৫) শুরুতেই সাজঘরের পথ দেখান তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি করা হ্যারি ব্রুক ৭ বলে মাত্র ১ রান করে রানআউটের শিকার হন এবং জর্ডান কক্স হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৬ রান।
বিপর্যয়ের মুখে একা লড়াই চালিয়ে যাওয়া বেন ডাকেটের সঙ্গে যোগ দিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন স্যাম কারান। তবে আবারও আঘাত হেনে ৪২ রান করা কারানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শাহিন আফ্রিদি, যার ফলে ১৫২ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এই জুটির মধ্যেই অর্ধশতক তুলে নেওয়া ডাকেট কারানের বিদায়ে ফের একাকী হয়ে পড়েন। নিজের শতক পূর্ণ করার পর দ্রুত রান বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১১ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রান করে থামেন ডাকেট। এর আগে উইল জ্যাকস ফেরেন ১৩ রানে এবং লিয়াম ডসন আউট হন ব্যক্তিগত ৫ রানে।
দলীয় ২০১ রানে ১০ রান করা জেমি ওভারটন আউট হলে নবম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে দলের সংগ্রহ ২৪১ রানে নিয়ে যান গাস অ্যাটকিনসন ও হেনরি ক্রোকম্ব। এই জুটিতে ৪০ রান যোগ হওয়ার পর ক্রোকম্ব ৮ রান করে শাহিনের চতুর্থ শিকার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। অ্যাটকিনসন অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সেরা ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি, যিনি একাই তুলে নেন সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট। এ ছাড়া রাজাউল্লাহ ও আরাফাত মিনহাস দুটি করে এবং হারিস রউফ নেন একটি উইকেট।