বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

নেইমার
পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরপরই নতুন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই নেইমার জুনিয়রের; বরং বুটজোড়া তুলে রাখার পর অন্তত প্রথম এক বছর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা ছাড়া পুরোপুরি নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড, যেখানে মন চাইলে তিনি মাঠে নামবেন কিংবা ইচ্ছে না হলে স্রেফ বিশ্রামে অলস সময় পার করবেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই। ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেননি নেইমার। তবে পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কেমন হবে তার জীবন, তা নিয়ে ভাবনা আছে সান্তোসের এই ফরোয়ার্ডের। সম্প্রতি ব্রাজিলের অনুষ্ঠান ‘ভারান্দা গুরমে’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবসরের পরিকল্পনার পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং মাঠের বাইরে ফুটবলের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। এমনই খবর প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।
অবসরের পর কী করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে নেইমার জানিয়েছেন, প্রথম এক বছর কোনো নিয়মের মধ্যে থাকতে চান না তিনি। পেশাদার ফুটবলের অনুশীলন, ফিজিওথেরাপি কিংবা নির্দিষ্ট সময়সূচির বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কাটাতে চান দিনগুলো। হাসতে হাসতে নেইমার বলেন, ‘আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব, তখন এক বছর কিছুই করব না। এমন হবে আজ ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করছে, তাই খেলতে যাব। আজ কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না, তাই কিছুই করব না।’
ফুটবল খেলতে ভালোবাসলেও টেলিভিশনে বসে ম্যাচ দেখতে খুব একটা আগ্রহী নন নেইমার। সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্যারিস ও বার্সেলোনায় থাকার সময় সতীর্থদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নেইমার জানান, ছুটির দিনে বন্ধুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল দেখতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশনে খেলা দেখা তার পছন্দ ছিল না।
নেইমারের ভাষায়, মাঠে ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেন তিনি, কিন্তু টেলিভিশনের সামনে বসে ম্যাচ দেখা তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। প্রিয় বন্ধুদের খেলায় খারাপ পারফরম্যান্স দেখলেও নাকি মেজাজ খারাপ হয় তার।
পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ততা সামলানোর পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোও নেইমারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুশীলন ও ফিজিওথেরাপির কারণে সময়ের চাপ থাকলেও সন্তানদের পছন্দের কাজগুলো করার চেষ্টা করেন তিনি।
বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে অ্যানিমেটেড সিনেমা দেখার অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তার মেয়ে ‘শ্রেক’ ও ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ সিনেমা দুটি খুব পছন্দ করে। তাই মেয়ের সঙ্গে বসে সেগুলো দেখেন নেইমার।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবন খুব ব্যস্ত। ফিজিওথেরাপি করতে হয়, অনুশীলন থাকে। তারপরও সন্তানদের জন্য কিছু সময় আলাদা করে রাখি। ওরা যা পছন্দ করে, সেগুলো করার চেষ্টা করি।’
অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও কবে বুটজোড়া তুলে রাখবেন, তা এখনো নিশ্চিত করেননি নেইমার। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে আপাতত বছর ধরে ধরে এগোতে চান।
সান্তোসের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে ভবিষ্যতে খেলোয়াড় হিসেবে চালিয়ে যাবেন, নাকি ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনো বাকি। তবে অবসরের পর প্রথম এক বছর যে নিজের মতো করে কাটাতে চান, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।