বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্কোরবোর্ডে তখন ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের বয়স ৮৩ মিনিট। এমন খাদের কিনারা থেকে যেকোনো দলের পক্ষেই ম্যাচ বাঁচানো অসম্ভব মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের মঞ্চে রিয়াল মাদ্রিদ নামটির সমার্থক শব্দই যেন ‘অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন’। হার নিশ্চিত হতে বসা এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল করে এক মহাকাব্যিক জয় ছিনিয়ে নিল স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। আরও একবার তারা রাজকীয় ঢঙে প্রমাণ করল, কেন খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের ক্লাবের রক্তেই মিশে আছে।
বুধবার রাতে স্তাদিও অলিম্পিকোয় রোমার মাঠ থেকে ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের সাবেক ক্লাব রোমার ঘরের মাঠে বস হোসে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তনের রাতটা দারুণভাবে রাঙিয়ে দিলেন তাঁর শিষ্যরা।
২০২১-২২ মৌসুমে বুধবারের এই প্রতিপক্ষ রোমার ডাগআউটে বসেই তাদের কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন মরিনিয়ো। এমনকি পরের মৌসুমেও দলটিকে ইউরোপা লিগের ফাইনাল পর্যন্ত টেনে তুলেছিলেন তিনি। বুধবার মরিনিয়ো প্রতিপক্ষ শিবিরের কমান্ডার হয়ে মাঠে ফিরলেও স্তাদিও অলিম্পিকোর গ্যালারিজুড়ে তাঁর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতায় নানা ব্যানার প্রদর্শন করেন স্বাগতিক দর্শকেরা।
রোমার মাঠে ম্যাচের ২০ মিনিটেই রোমাঞ্চের সূচনা হয়। মাতিয়াস সুলের দারুণ এক পাস থেকে ২০ গজ দূর থেকে বুলেটগতির দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে রোমাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মার্টেন ডে রুন। তবে সেই লিড দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি মাদ্রিদ। পাঁচ মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য এক দুরপাল্লার শটে রিয়ালকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা এই ফরাসি তারকার শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বিভ্রান্ত গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই টুর্নামেন্টে এটি এমবাপ্পের ৭২তম গোল, যার মাধ্যমে রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে স্বাগতিক রোমা। দুটি গোলই করেন ডাচ ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শিশুতোষ ভুলের পূর্ণ সুযোগ নেন তিনি; মাঝমাঠে ফ্লিক করতে গিয়ে বল হারান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা, আর সেই সুযোগে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মালেন। এর কিছুক্ষণ পর ৫৭ মিনিটে আবারও রোমাকে উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড। সহকারী রেফারি প্রাথমিকভাবে অফসাইডের সংকেত দিলেও পরবর্তীতে ভিএআরের দীর্ঘ পর্যালোচনায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হলে ম্যাচের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিট থেকে শুরু হয় রিয়াল মাদ্রিদের রূপকথার প্রত্যাবর্তন। টানা তিনটি নিখুঁত সেট পিস থেকে ৩টি গোল আদায় করে জয় ছিনিয়ে নেয় লস ব্লাঙ্কোসরা। ৮৩ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় গোলমুখের আলতো টোকায় ব্যবধান ৩-২ করেন বদলি খেলোয়াড় কার্লোস ইস্পি; রোমা গোলরক্ষক বিস্ময় বালক এন্দ্রিকের জোরালো হেড ঠেকিয়ে দিলেও সামনে ফাঁকায় দাঁড়ানো ইস্পি ফিরতি বলে গোল করতে ভুল করেননি।
এর ঠিক দুই মিনিট পর ৮৫ মিনিটে আর্দা গুলারের নেওয়া বাঁকানো কর্নার কিক থেকে অসাধারণ এক হেডে রিয়ালকে ৩-৩ ব্যবধানে সমতায় ফেরান তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক। আর ৯০ মিনিটের অন্তিম লগ্নে রচিত হয় নাটকের চূড়ান্ত সমাপ্তি। গুলারের আরেকটি নিখুঁত সেট পিস বল রোমার বক্সে প্রবেশ করলে নিকট পোস্টে দুর্দান্ত এক ভলিতে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে রিয়ালকে অবিশ্বাস্য ৪-৩ গোলের ঐতিহাসিক জয় এনে দেন জার্মান ডিফেন্ডার অ্যান্তোনিও রুডিগার।