বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে স্বাধীন কমিশনের কাছে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। রোববার (১১ অক্টোবর) অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ক্লাবটি।
ম্যাচ চলাকালে লিভারপুলের সমর্থকেরা সিটির বিরুদ্ধে নানা ব্যানার প্রদর্শন এবং ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানে ক্ষোভ উগরে দেন। তবে গ্যালারির সেই বৈরী পরিবেশে সফরকারী সিটি সমর্থকদের স্ট্যান্ডে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃশ্য—শত শত হলুদ রঙের ফোলানো কলা নাড়িয়ে উল্লাস করছেন তারা।
কলার এই অভিনব প্রদর্শন বর্তমান আর্থিক বিতর্কের মুখে হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো কৌশল নয়; এর শিকড় প্রোথিত প্রায় ৪০ বছর আগের ম্যানচেস্টার সিটির নিজস্ব গ্যালারি-সংস্কৃতিতে। তবে অ্যানফিল্ডে এই পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার পেছনে ছিল তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।
কলার সঙ্গে সিটির ঐতিহাসিক সংযোগ
১৯৮৭ সালে ফ্র্যাঙ্ক নিউটন নামের এক সিটি সমর্থক ক্লাবের তৎকালীন মাঠ মেইন রোডে প্রথম একটি ফোলানো খেলনা কলা নিয়ে উপস্থিত হন। মুহূর্তের মধ্যেই গ্যালারিজুড়ে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ঠিক একই সময়ে সিটির সমর্থকদের অন্যতম প্রিয় তারকা ছিলেন স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদি। একটি ম্যাচে তাঁকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামানোর দাবি জানাতে গিয়ে সমর্থকেরা স্লোগানে তাঁর নামের সঙ্গে মিলিয়ে ডাকেন—‘ইমরে ব্যানানা’।
ভারাদির এই ডাকনাম এবং প্লাস্টিকের ফোলানো কলা মিলেই পরবর্তীতে সিটি সমর্থকদের অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আশির দশকের শেষভাগে মাঠে দলটির উপস্থিতি মানেই ছিল হলুদ ফোলানো কলার মেলা।
অ্যানফিল্ডে ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন
চলতি বিতর্কের মাঝে ক্লাবের সাবেক দিনের আবহ ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেয় সিটির সমর্থকগোষ্ঠী ‘১৮৯৪ গ্রুপ’। লিভারপুলের মাঠে সফরকারী সমর্থকদের জন্য আগে থেকেই রেট্রো জার্সি পরা এবং সেই ঐতিহাসিক ফোলানো কলা সাথে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে কমিশন সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করার পর ক্লাবটি আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে এবং সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে অ্যানফিল্ডে স্বাগতিক দর্শকদের কটূক্তির জবাব নিজেদের মতো করে ব্যঙ্গ ও ঐতিহ্যের মিশেলে দিতে চেয়েছেন সিটি সমর্থকেরা।
ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ১৮৯৪ গ্রুপের এক প্রতিনিধি জানান, “আমরা সবাইকে স্পষ্ট মনে করিয়ে দিতে চাই, ভবিষ্যতে আমরা যে লিগেই খেলি না কেন, সবসময় নিজেদের ক্লাবের পাশেই থাকব।”