বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক
খেলাধুলাকে কেবল সাময়িক বিনোদন হিসেবে না দেখে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সম্মানজনক, টেকসই ও নিরাপদ পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে ঘোষণা করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর সরকারি কর্মচারী কল্যাণ কেন্দ্র আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় বার্ষিক ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন যে, মেধা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার অভাবে প্রতি বছর দেশের শত শত প্রতিভাবান তরুণ ক্রীড়াবিদ খেলাধুলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এই করুণ পরিস্থিতির স্থায়ী অবসানে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও মোবাইলের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ভেতর যে শৃঙ্খলা, দলগত সমঝোতা ও নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়, তা একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকারি কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চায় সম্পৃক্ত হওয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, সুস্থ দেহেই কেবল সুস্থ মনের বাস এবং শারীরিক সুস্থতা প্রশাসনিক সেবার গতি ও দক্ষতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। ক্রীড়াঙ্গনের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাতৃত্ববোধ জাতীয় ঐক্যের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান যে, দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যেখানে রাতেও খেলার জন্য সৌরচালিত ফ্লাডলাইট এবং প্রয়োজনীয় ড্রেসিংরুম থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) আদলে বিভাগীয় পর্যায়ে নতুন নতুন ট্যালেন্ট হান্ট একাডেমি স্থাপন করা হবে যাতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্সে গ্রামগঞ্জ থেকে বিশ্বমানের প্রতিভা তুলে আনা যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না; মেধার ভিত্তিতেই জাতীয় দল গঠন নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং আহত খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত চিকিৎসা তহবিল গঠনের দাবি জানান। প্রবীণ ফুটবলাররা আক্ষেপ করে বলেন যে, অতীতে দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে মারাত্মক চোট পেয়ে চিকিৎসা খরচের অভাবে বহু খেলোয়াড়কে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। উপস্থিত ক্রীড়া সংগঠকরা ফেডারেশনগুলোর বার্ষিক অডিট ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেন যে, অসচ্ছল ও প্রবীণ ক্রীড়াবিদদের আজীবন মাসিক ভাতা ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগামী মাসেই একটি বিশেষ 'জাতীয় ক্রীড়া সুরক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট' আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।
ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য দেশকে বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত করে উল্লেখ করে নিজের বক্তব্যের ইতি টানেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মো. আমিনুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশ্বজয় করতে পারলে পুরো জাতি এক পতাকার নিচে আনন্দাশ্রুতে একাত্ম হয়; আমাদের তরুণরা যেন নিশ্চিন্ত মনে খেলাধুলাকে জীবন ও জীবিকা হিসেবে বেছে নিতে পারে আমরা সেই দিনবদল নিশ্চিত করব।" এরপর তিনি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১৬টি দলের মধ্যে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় ট্রফি ও প্রাইজমানির চেক তুলে দেন। সরকারের এই ইতিবাচক ক্রীড়ানীতি দেশের অ্যাথলেটদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।