বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে জাকার্তার গেলোর বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত 'এ' গ্রুপের এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল উপহার দেয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এই বড় জয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে গ্রুপ তলানি হিসেবেই টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে ফরোয়ার্ড মিচেল লি বেকার একাই চার গোল করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রথম ২০ মিনিটেই বেকারের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৩১তম মিনিটে রিজকি রিধো দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করার পর ৩৬তম মিনিটে ম্যাচে কিছুটা ফেরার আভাস দেয় বাংলাদেশ, যখন সুকির নিচু ক্রসে দারুণ হেডে টুর্নামেন্টে দলের প্রথম গোলটি এনে দেন শাহরিয়ার ইমন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; ৩৭ ও ৩৯তম মিনিটে দ্রুত আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বেকার এবং বিরতির ঠিক আগে জাস্টিন হাবনার কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করলে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন। কিন্তু ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে লুক বিকারি ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম গোলটি করার পর অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের পাসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি করেন বদলি ফরোয়ার্ড ফারহান আলী। এই গোলের পরপরই মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ দলের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে শেষ মিনিটে আরও দুটি গোল হজম করে ৯-২ গোলের লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল।
ম্যাচ শেষে হামজা চৌধুরীকে মাঠের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় এবং কোচিং স্টাফরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ম্যাচের গতি সামলানোর ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের চরম সমন্বয়হীনতা এবং ভুল পাস দেওয়ার প্রবণতাই এই বড় বিপর্যয়ের মূল কারণ।
জাকার্তায় ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ। বাংলাদেশ ফুটবল দলের সহকারী কোচ বলেন, "প্রথমার্ধেই ছয়টি গোল হজম করে ফেলার পর ম্যাচে ফেরা অসম্ভব ছিল; দল দুটি গোল শোধ করলেও এই পর্যায়ের ম্যাচে রক্ষণভাগের এমন বিশৃঙ্খলা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না"। শুক্রবার জাকার্তা ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরবে বাংলাদেশ দল।