বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাপানের নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার ঠিক আগের দিন চরম অব্যবস্থাপনা, তীব্র যাতায়াত বিড়ম্বনা এবং কূটনৈতিক বিরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আসরের সার্বিক পরিবেশ।
অলিম্পিকের চেয়েও বেশি—১৭ হাজারের অধিক প্রতিযোগী ও কর্মকর্তার বহর সামলাতে গিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়েছে আয়োজক কমিটি। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ নির্মাণ না করে খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক হোটেল, কনটেইনারের অস্থায়ী কেবিন এবং নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা একটি ক্রুজ জাহাজে। অনেক দলই কক্ষের স্বল্পতা এবং ছোট ও অস্বস্তিকর বিছানার বিষয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং সমন্বয়হীনতায়। প্যারিস অলিম্পিকে দুটি রৌপ্যজয়ী চীনা বিশ্বজয়ী জিমন্যাস্ট ঝাং বোহেং বুধবার পৌঁছানোর পর টানা ছয় ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সকাল সাতটার পর সন্ধ্যা সাতটার আগে তাঁরা কোনো খাবার পাননি। দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্রুজ জাহাজে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে ভারি বৃষ্টির কারণে খেলোয়াড়রা উঠতে পারেননি; নিরুপায় হয়ে পুরো দিন নষ্ট হওয়ার পর তাঁরা নিজস্ব খরচে হোটেলে গিয়ে ওঠেন।
চীনা ব্যাডমিন্টন দলও নির্ধারিত শাটল বাস না পেয়ে বিপাকে পড়লে নাগোয়ায় বসবাসরত প্রবাসী চীনারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এসে খেলোয়াড়দের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। সামাজিক মাধ্যম উইবোতে ‘এশিয়ান গেমস অ্যাবসার্ড’ হ্যাশট্যাগটি ৯ কোটিরও বেশিবার দেখা হয়েছে। একই ধরনের দীর্ঘ লাইনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় দলের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাথলেটদেরও বিমানবন্দরে পাঁচ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক বিরোধ। উদ্বোধনী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ষোড়শ শতাব্দীর জাপানি সেনাপতি তোয়োতোমি হিদেয়োশির প্রতীকী চরিত্র উপস্থাপন করায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া অলিম্পিক কমিটি। ১৫৯২ থেকে ১৫৯৮ সালে কোরিয়া উপদ্বীপে রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হিদেয়োশি, যা কোরীয়দের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঐতিহাসিক ক্ষত।
তবে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও অ্যাথলেট সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) মহাপরিচালক হুসেইন আল-মুসাল্লাম। তিনি স্বীকার করেন যে কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজ থাকলে সুবিধা হতো, তবে স্বাগতিকদের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ টেকসই ব্যবস্থার স্বার্থেই এমন বিকল্প আবাসন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।