বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ
২০১৮ সালের বল বিকৃতি কেলেঙ্কারি বা বহুল আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বিতর্কের মানসিক অভিঘাত এখনো তাঁকে তাড়া করে ফেরে বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে আট বছর আগের সেই দুঃসহ ঘটনার পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজে মাঠে নামার আগে কোনো মানসিক ভীতি তাঁকে স্পর্শ করছে না বলে জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান ব্যাটার।
আট বছর আগে কেপটাউন টেস্টে শিরিষ কাগজ (স্যান্ডপেপার) দিয়ে বলের আকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর চরম অপমানের মুখে নেতৃত্ব হারান স্মিথ। এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নারকে এক বছর এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের পর দল যাবে গেবেখা ও কেপটাউনে। এই সিরিজের প্রস্তুতি চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে স্মিথ জানান, জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিশৃঙ্খল জটলা এবং সিডনিতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ার সেই সংবাদ সম্মেলনের স্মৃতি এখনো তাঁর মনে ফিরে আসে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি ক্যামেরার উপস্থিতি খুব একটা পছন্দ করি না... সত্যি বলতে ক্যামেরার সামনে এলে আমি একধরনের মানসিক অস্থিরতা অনুভব করি। ওটা আমার জীবনের চরম একটি মানসিক আঘাত ছিল। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের শব্দ শুনলেই কোনো না কোনোভাবে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের কাছ থেকে এক বছর নিষিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার সেই ২৪-৪৮ ঘণ্টা, জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে চরম হেনস্তার মুখে পড়া এবং দেশে ফিরে সেই সংবাদ সম্মেলন—সবকিছুর কিছু কিছু দুঃসহ স্মৃতি এখনো আমার মনে হঠাৎ ভেসে ওঠে।"
অস্ট্রেলীয় ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়ের প্রধান দায় মাথায় নিলেও দুর্দান্তভাবে ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন স্মিথ। প্রত্যাবর্তনের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করে শুরু করে টেস্টে এখন পর্যন্ত ৫৬ গড়ে ১০,৯২০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।
স্মিথ বলেন, "সেটা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল, বিশেষ করে ঘটনার পরবর্তী কয়েকটা দিন। আমার মানসিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে আমি আর কখনোই ফিরে যেতে চাই না। তবে আমি সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি। আমি ২০১৮ সালের সেই অধ্যায়টি স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি।"
২০১৮ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় সাদা বলের সিরিজ খেললেও টেস্ট খেলতে এই প্রথম দেশটিতে পা রাখছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। মাঠে স্বাগতিক দর্শকদের কাছ থেকে তীব্র বিদ্রূপের আশঙ্কা থাকলেও তা নিয়ে একদমই বিচলিত নন স্মিথ। অতীতে ইংল্যান্ডের মাঠে ‘বার্মি আর্মি’র তুমুল দুয়ো সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে।
"এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে পড়তে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ক্যারিয়ারজুড়ে বিদেশের মাটিতে এমন অনেক কিছু আমাকে সহ্য করতে হয়েছে। এগুলো আমি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করি এবং মাঠে ইতিবাচক পারফর্ম করার বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাই," যোগ করেন স্মিথ।