বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সিতে একসঙ্গে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলি
টেস্ট ক্রিকেটে বিদেশের বৈরী কন্ডিশনে ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কে—এই পুরোনো বিতর্কে নতুন ও গভীর এক ক্রিকেটীয় দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটিং জিনিয়াস এবি ডি ভিলিয়ার্স। তাঁর মতে, উপমহাদেশের ব্যাটারদের জন্য বাউন্সি ও পেস-সহায়ক উইকেটে রান করার প্রাথমিক বিশ্বাস ও পথটা শচীন টেন্ডুলকার তৈরি করে দিলেও, সেই কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি ছিলেন আরও বেশি প্রভাবশালী, আগ্রাসী ও শারীরিক শক্তিমত্তায় সমৃদ্ধ।
আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে কোহলির সাথে দীর্ঘদিন মাঠ মাতিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। দুজনের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের কথা ক্রিকেটবিশ্বে সবারই জানা। তবে এই মূল্যায়ন নিছক ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের খাতিরে নয়, বরং খাঁটি ক্রিকেটীয় যুক্তি ও কন্ডিশন মোকাবিলার ধরন বিশ্লেষণ করে নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন ৪২ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শচীন ছিলেন ভারতীয় ব্যাটিং বিপ্লবের সূচনা বিন্দু, আর কোহলি সেই বিপ্লবকে দিয়েছেন এক পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসী মাত্রা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বনাম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
আশির ও নব্বইয়ের দশকে যখন এশিয়ার ব্যাটাররা সেনা (SENA—দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশগুলোর বাউন্সি ও সিমিং ট্র্যাকে ধুঁকছিলেন, তখন শচীন প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে বিশ্বমানের গতি ও বাউন্স সামলানো সম্ভব। তবে কোহলি সেই অবস্থানকে কেবল উইকেট বাঁচানোর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করেছেন।
ডি ভিলিয়ার্সের পর্যালোচনার মূল দিকগুলো:
শচীনের ঐতিহাসিক অবদান: উপমহাদেশের ব্যাটারদের মানসিক ভীতি দূর করে বিদেশের মাটিতে রান তোলার টেকনিক্যাল মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।
কোহলির দাপুটে আধিপত্য: শচীনের তৈরি করা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কোহলি নিজের অদম্য ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা ও আগ্রাসী স্ট্রোকপ্লের মাধ্যমে বিশ্বসেরা পেসারদের ওপর সম্পূর্ণ প্রাধান্য বিস্তার করেন।
এক ধাপ এগিয়ে থাকার যুক্তি: উইকেটে কেবল টিকে থাকার চেয়ে বোলারদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে রান তোলার শক্তিতে কোহলিকে শচীনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স।
ডি ভিলিয়ার্সের বিশ্লেষণ ও মূল বক্তব্য
ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, ক্রিকেটের যেকোনো ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রায় একজন পথপ্রদর্শক থাকেন এবং পরবর্তীতে তাঁর উত্তরসূরি সেই মানদণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ঠিক সেভাবেই শচীনের শুরু করা কাজটিকে কোহলি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
‘বিদেশের কন্ডিশনের কথা বললে শুরুতেই শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তির কথা মনে পড়ে, যিনি অনেক আগে ভারতের হয়ে বিদেশের মাটিতে লড়াই করার সেই ধারা শুরু করেছিলেন। উপমহাদেশের ব্যাটার হিসেবে বাউন্সি ও সিমিং কন্ডিশনেও যে সফল হওয়া সম্ভব, সেটি প্রথম দেখিয়েছিলেন শচীন। তবে তিনি বিরাট কোহলির মতো এত শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ছিলেন না; বিরাট সেই ধারাটিকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন এবং মানদণ্ডকে আরও উঁচুতে তুলেছেন।’
বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটে সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
শচীন ও কোহলির তৈরি করা এই নির্ভীক ব্যাটিং দর্শনের সুফল বর্তমান ভারতীয় দল নিয়মিতভাবে পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি জানান, আজকের তরুণ ব্যাটাররা বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে আর কন্ডিশন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না, বরং আত্মবিশ্বাসের সাথে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে ভারতের ১৬৫ রানের দাপুটে জয়ে সেই প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে:
লোকেশ রাহুলের দায়িত্বশীল ইনিংস: প্রথম ইনিংসে প্রতিকূলতা সামলে ৮২ রানের অত্যন্ত কার্যকরী এক ইনিংস খেলেন রাহুল।
দেবদূত পাড়িক্কালের ক্ল্যাসিক ১৬৭: নির্ভীক ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করে তরুণ পাড়িক্কাল উপহার দেন ১৬৭ রানের বিশাল সেঞ্চুরি।
ডি ভিলিয়ার্স যোগ করেন, ‘শচীন ও বিরাটের স্থাপন করা সেই উচ্চমানের কারণেই এখন লোকেশ রাহুল ও দেবদূত পাড়িক্কালের মতো ব্যাটাররা বিদেশের কন্ডিশনে অনায়াসে দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন এবং পূর্বসূরিদের দেখানো পথ ধরে সাফল্য ছিনিয়ে আনছেন।’
ডি ভিলিয়ার্সের মতে, শচীনের নিখুঁত টেকনিক উপমহাদেশকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল, আর কোহলির অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসন সেই স্বপ্নকে বিশ্বমঞ্চে এক নিয়মিত বাস্তবে রূপান্তর করেছে।