বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ। ২২৮ রানের বড় লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের চার উইকেট তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। নিজের বলে দুর্দান্ত ফিরতি ক্যাচ নিয়ে স্টিভেন স্মিথকে ৪৪ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি।
স্মিথের বিদায়ে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার ৪৯ রানের জুটির সমাপ্তি হয়। ৮৮ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার মেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৪১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৩৫ রান। ফলে বাংলাদেশের লিড কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ রানে।
তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের শুরুতে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে ছিলেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন। তবে জুটি বেশিদূর এগোতে দেননি তাইজুল ইসলাম।
তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ৫৯ বলে ৩১ রান করে ফেরেন লাবুশেন। তার বিদায়ে স্মিথের সঙ্গে গড়া ৩৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর গ্রিনকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন স্মিথ।

তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের দুর্দান্ত শিকার হন স্মিথ। নিজের বলেই ফিরতি ক্যাচ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসার ব্যাটারকে বিদায় করেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জেইক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন অজি ওপেনার।
এরপর ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় সাফল্য তুলে নেন হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বোল্ড হন হেড। তিনটি চারে ৩৫ বলে ১৭ রান করেন তিনি।
হাসানের জোড়া আঘাতে ১৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। তখনও বাংলাদেশের চেয়ে ১৭৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
তাইজুলের বলে লাবুশেন ফেরার পর স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। ৩১তম ওভারে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তা পান গ্রিন।
তাসকিন আহমেদের ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করলেও বেলস না পড়ায় বোল্ড হওয়া থেকে বেঁচে যান তিনি। উল্টো বল সীমানায় চলে যাওয়ায় চার রান পান গ্রিন।
এরপর স্মিথের সঙ্গে তার জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করায়। কিন্তু মিরাজের বলে স্মিথ ফেরার পর আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তানজিদ করেন ১০১ রান, শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮৪ এবং মিরাজ করেন ৬৫ রান।
মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন জশ হ্যাজলউড। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। পরে এবাদত হোসেনকে আউট করে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।

দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে আরও দুই উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ়তায় লিড বাড়াতে থাকে সফরকারীরা।
হাসান মাহমুদের সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়েন মিরাজ। পরে তাইজুল ইসলামও ১৭ রান করে বিদায় নেন। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মিরাজ।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়িয়ে যায়। প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকও পার করান তাসকিন আহমেদ।
সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়াকে চার উইকেট হারিয়ে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ। হাতে থাকা লিড এবং বোলারদের ধারালো আক্রমণে ডারউইন টেস্টে জয়ের সম্ভাবনাও ক্রমেই জোরালো করছে সফরকারীরা।